সিলেট সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখন কানায় কানায় পূর্ণ। ১৯১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ৪৩ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হলো এক রূপকথার গল্প, যার মহানায়ক নাজমুল হোসেন। সমালোচনার তপ্ত আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা হয়ে ফিরলেন তিনি। ৫৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে রাজশাহীভক্তদের আনন্দে ভাসালেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
মাঠের লড়াই ও নাজমুল-মুশফিক ম্যাজিক
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সিলেট টাইটানস নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৯০ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায়। সিলেটের পক্ষে পারভেজ হোসেন ৩৩ বলে ৬৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন। জবাব দিতে নেমে শুরুতে বিপর্যয়ে পড়লেও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে সাথে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন নাজমুল।
এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ৭১ বলে ১৩০ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি ম্যাচটিকে সিলেটের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। নাজমুল ৬০ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন, যার মধ্যে ছিল ১০টি চার ও ৫টি চোখধাঁধানো ছক্কা। অন্যদিকে, নিলামে প্রথম ডাকে অবিক্রীত থাকা মুশফিকুর রহিম ৩১ বলে ৫১ রানের এক ‘পয়েন্ট-টু-প্রুভ’ ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেন।
ব্যাটে চুমো এবং সমালোচনার জবাব
নাজমুলের আজকের এই উদ্যাপন ছিল কিছুটা আলাদা। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর ব্যাটে চুমো এঁকে তিনি যেন নিঃশব্দে জবাব দিলেন গত বিপিএলের সব তিক্ততার। ফরচুন বরিশালের হয়ে গত আসরে মাত্র ৫ ম্যাচ সুযোগ পাওয়া নাজমুলকে শুনতে হয়েছিল গ্যালারির দুয়োধ্বনি। আজ সেই সিলেটেই ১৮ হাজার দর্শকের সামনে বীরের বেশে মাঠ ছাড়লেন তিনি।
| খেলোয়াড় | দল | অবদান | স্ট্যাটাস |
| নাজমুল হোসেন | রাজশাহী | ১০১* (৬০ বল) | ম্যান অব দ্য ম্যাচ |
| মুশফিকুর রহিম | রাজশাহী | ৫১* (৩১ বল) | অপরাজিত জয়ী |
| পারভেজ হোসেন | সিলেট | ৬৫* (৩৩ বল) | অপরাজিত |
| সন্দীপ লামিচানে | রাজশাহী | ২/২৮ (৪ ওভার) | নিয়ন্ত্রিত বোলিং |
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
সিলেট টাইটানস: ১৯০/৫ (২০ ওভার); পারভেজ ৬৫*, রনি ৪১।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৯২/২ (১৯.৪ ওভার); নাজমুল ১০১*, মুশফিক ৫১*।
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: নাজমুল হোসেন।