তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে সিরাজগঞ্জ জেলা। মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঠান্ডা বাতাসের দাপট বেড়ে যায়, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তোলে।
সকালে ঘন কুয়াশার আচ্ছাদনে ঢাকা পড়ে পুরো জেলা। দীর্ঘ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় দুপুর পর্যন্ত শীতের অনুভূতি ছিল তীব্র। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি এবং আগামী কয়েকদিন এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে।
চরম শীতের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে খড়, কাঠ ও পরিত্যক্ত জিনিস জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
জেলা শহরের হোসেনপুর, মালশাপাড়া, চান্দালিমোর, কাটাওবদা, মিরপুর, মাছুমপুর, ধানবান্ধি, জানপুর, রানীগ্রাম, শহীদগঞ্জ, কালিবাড়ি, রেলওয়ে কলোনি, গোশালা, এসএস রোড, এসবি ফজলুল হক রোড, জর্জ কোর্ট এলাকা, বাজার স্টেশন, স্টেডিয়াম মাঠ, শহীদ এম এ মুনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেলখানার ঘাট, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ, পুলিশ লাইন ও চায়নাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে—ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনপদ যেন স্থবির হয়ে আছে।
গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। তবে জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করেই অনেক শ্রমজীবী মানুষকে ভোরের অন্ধকারে কাজে বের হতে দেখা গেছে।
এদিকে শীত ও কুয়াশার প্রভাব পড়েছে কৃষিখাতেও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা জানান, অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।