২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ‘অপেশাদার’ আখ্যা বিসিবি পরিচালকের

নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ‘অপেশাদার’ আখ্যা বিসিবি পরিচালকের

মাঠে প্রথম বল গড়ানোর আগেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুশীলনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) অনুশীলনের সময় হঠাৎ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোচ সুজন। আউটার মাঠে অনুশীলন চলাকালে বল সংক্রান্ত জটিলতায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে স্টেডিয়াম ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, “আমি কোনোভাবেই বিপিএল করবো না।” এমনকি দলের কোচের দায়িত্বে না থাকার কথাও জানান তিনি। যদিও পরে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন,
“এটার অর্থ তারা অপেশাদার। গভর্নিং কাউন্সিলকে জানালে আমরা নিজেরাই ১০টা বল দিয়ে দিতাম। এমন সমস্যার সমাধান খুবই সাধারণ—অন্য দল থেকে নিয়ে পরে ফেরত দেওয়া যায়। এটা তো আগেও বহুবার হয়েছে।”

মিঠুর মতে, এমন ছোটখাটো বিষয় সামলাতে না পারা দলটির অদক্ষতাই প্রমাণ করে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কোচের সঙ্গে সমন্বয়ের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই ঘটনার আগেই বিপিএলে আরেকটি বড় ধাক্কা আসে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাইয়ুম দলটির মালিকানা ছেড়ে দেন। এর পাশাপাশি টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন অধিনায়কদের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন ও ফটোসেশন না হওয়ায় আয়োজনের সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচনার মুখে বিপিএল আয়োজনের বাস্তবতা তুলে ধরে মিঠু বলেন,
“অক্টোবরের ১২–১৩ তারিখে আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। এত অল্প সময়ে নতুন করে দল গঠন, চুক্তি, আয়োজন—সবকিছু করা সত্যিই কঠিন। আগের চুক্তিগুলো শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে ফ্র্যাঞ্চাইজি দিতে হয়েছে। দুই মাসে এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সহজ কাজ নয়।”

সব মিলিয়ে, মাঠে খেলা শুরুর আগেই বিপিএল ১২তম আসর যে সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জে পড়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার বিষয়, মাঠের ক্রিকেট কি এই সব বিতর্ক ছাপিয়ে যেতে পারে কিনা।