দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সরকারি খাদ্যগুদামে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ না করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গত সোমবার (২২ডিসেম্বর) ধান-চাল সংগ্রহের শেষ সময় থাকলেও একজন কৃষকের কাছ থেকেও ধান কেনেনি গুদাম কতৃপক্ষ। ফলে সরকারি খাদ্যগুদামে বিক্রয়ের আশায় রাখা ধান নিয়ে সাধারণ কৃষকরা এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।
গত ২০ নভেম্বর খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন। নির্বাচনের আগে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা ছিল মন্ত্রণালয়ের। ধান সংগ্রহের শেষ তারিখ ছিল ২২ ডিসেম্বর। কিন্তু হিলি খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমানের গাফিলতিতে এই সময়ের মধ্যে কোনো ধান কেনা হয়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, ৩৫ জন কৃষক ২০ নভেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে ধান-চাল সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী সংগ্রহের এক দিন আগেও আবেদন করতে পারবেন তারা।
এমরান আলী নামে এক কৃষক অভিযোগ করেন, অনলাইনে আবেদনের পর দুই টন ধান নিয়ে গুদামে গেলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আবার গেলে বলা হয় সময় শেষ। এতে তাঁর ভ্যান ভাড়াসহ অতিরিক্ত এক হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, গুদাম কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ধান কিনতে আগ্রহী, সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে নয়। এ বিষয়ে হিলি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেট করার সুযোগ নেই। চাল সংগ্রহে ব্যস্ত থাকায় ধান কেনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। জেলা অফিস থেকে এখন কেনা বন্ধ রাখার নির্দেশ আসায় তারা আর ধান নিতে পারছেন না।
হাকিমপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমান দাবি করেন, কৃষকরা আবেদন দেরিতে করায় এবং প্রচারণার (মাইকিং) জন্য সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কৃষকদের জানানো সম্ভব হয়নি।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, উপজেলায় আট হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে এবং ৩৫ জন কৃষক অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এর পরও ধান না কেনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এবিষয়ে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, হিলি গুদামে ৮৬ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। বারবার তাগাদা দিলেও তারা এক টন ধানও কেনেনি। এই চরম অবহেলার কারণে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।