অবসরের তিন বছরের মধ্যে সরকারি কর্মচারীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না—গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) এই বিধানের ওপর হস্তক্ষেপ করেনি হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিধান চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো. মনজুর আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। তিনি বলেন, রিট আবেদনটি ছিল প্রি-ম্যাচিউরড বা অপরিপক্ক। কারণ রিটকারী বর্তমানে কোনো প্রার্থী নন। তাছাড়া তিনি চুক্তিভিত্তিক চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। অথচ আরপিও অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেও অবসরের তিন বছর পার না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এসব কারণেই আদালত রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
আরপিও’র ১২(১)(সি)(এফ) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু মো. মোফাখ খারুল ইসলাম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান—এমন নির্দেশনা চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
রিট আবেদনে বলা হয়, উক্ত বিধানের কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় রিটকারী একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ২০ ডিসেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেছেন।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম. মাহবুবউদ্দিন খোকন এবং এনসিপির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নাজমুস সাকিব। শুনানিতে তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট মেরি আকতার ও আশরাফি সানজিদা।
উল্লেখ্য, আরপিও’র ১২(১)(সি)(এফ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরের তিন বছরের মধ্যে কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।