২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রদবদলের গুঞ্জন নাকচ: স্বপদেই থাকছেন জাহাঙ্গীর আলম ও আইজিপি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রদবদলের গুঞ্জন নাকচ: স্বপদেই থাকছেন জাহাঙ্গীর আলম ও আইজিপি

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বড় ধরনের রদবদলের গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না।

বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না বলে সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গুঞ্জন ও সরকারের স্পষ্ট অবস্থান
গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল যে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে সরিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই গুঞ্জন নাকচ করে দেন। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার জানা নেই।

রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, খলিলুর রহমানকে স্বরাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী ও সংস্থাগুলোর সাথে খলিলুর রহমানের সমন্বয়ে সমস্যা হতে পারে। জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, এই মুহূর্তে স্পর্শকাতর কোনো পদে পরিবর্তন আনলে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর মনোবল আরও ভেঙে পড়তে পারে, যা আসন্ন নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে তুলবে।

আইজিপি বদল না করার নেপথ্য কারণ
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা এবং শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আইজিপি বাহারুল আলমকে সরানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। জনপ্রশাসনের বিশেষজ্ঞদের মতে:

নির্বাচনের আগমুহূর্তে বড় ধরনের রদবদল পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে।

ছাত্র নেতৃত্বের চাপে পুলিশ প্রধান পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে রদবদলের দাবি ওঠার ঝুঁকি থাকে।

একনেক পরবর্তী বিশেষ বৈঠক
মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকের পর উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন্ন বড়দিন, ইংরেজি নববর্ষ এবং বিএনপি নেতা তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। উপদেষ্টারা যেকোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এছাড়া শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও সরকারপ্রধানকে অবহিত করা হয়।