সংযুক্ত আরব আমিরাতের মরুভূমির রাতে ইন্টারন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতে দেখা মিলল বাংলাদেশের দুই তারকা পেসারের মুখোমুখি লড়াই। দুবাই ক্যাপিটালসের তাসকিন আহমেদ ও শারজা ওয়ারিয়রসের মোস্তাফিজুর রহমানের এই দ্বৈরথে দলীয় জয়ে এগিয়ে থাকলেন ‘বাঁহাতি কামান’ মোস্তাফিজ।
বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ম্যাচটি ছিল নিখাদ আনন্দের উপলক্ষ। আইএলটি২০-এ দুবাই ক্যাপিটালস ও শারজা ওয়ারিয়রসের ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা—কারণ দুই প্রান্তে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৬৩ রানের বড় জয় পায় মোস্তাফিজের শারজা ওয়ারিয়রস।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেখলে তাসকিন ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। বিপরীতে মোস্তাফিজ মাত্র ২ ওভার বোলিং করে ১৩ রানে নেন ২ উইকেট। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ও সময়োপযোগী ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ায় লড়াইয়ের জয়টা শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজের দিকেই গেছে।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দুবাই ক্যাপিটালস ৬ উইকেটে তোলে ১৮০ রান। সেদিকুল্লাহ আতালের ৪৪ বলে ৬৬ রানের ইনিংস ও মোহাম্মদ নবীর অপরাজিত ৩৮ রান ছিল ইনিংসের ভরসা। জবাবে শারজা ওয়ারিয়রস ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১৭ ওভারেই গুটিয়ে যায় ১১৭ রানে।
শারজার ইনিংসে মোস্তাফিজ প্রথম স্পেলে ওপেনার জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে ম্যাচে চাপ তৈরি করেন। পরে ১৬তম ওভারে এসে আদিল রশিদকে আউট করে নিশ্চিত করেন জয়। মাঝের ওভারগুলোতে ওয়াকার সালামখিল, হায়দার আলী ও মোহাম্মদ নবীর নিয়ন্ত্রিত বোলিং মোস্তাফিজকে দীর্ঘ সময় আক্রমণে না আনার সুযোগ দেয় শারজা অধিনায়ককে।
অন্যদিকে তাসকিন শুরুতে কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও ডেথ ওভারে ফিরে আসেন চেনা রূপে। সেদিকুল্লাহ আতাল ও দাসুন শানাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে নিজের ‘টপ গিয়ার’ গতি আবারও প্রমাণ করেন তিনি।
চলতি আইএলটি২০-এ মোস্তাফিজ এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তাসকিনের ঝুলিতে আছে ৩ ম্যাচে ৪ উইকেট। মাঠের লড়াইয়ের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই পেসারকে ঘিরে প্রশংসা ঝরেছে। মোস্তাফিজকে নিয়ে পোস্ট এসেছে, ‘সেরারাও এই বাঁহাতি কামানকে ভয় পায়’, আর তাসকিনকে নিয়ে শারজার বার্তা—‘শুধুই টপ গিয়ার, তাসকিন আহমেদ সংস্করণ।’
মরুভূমির রাতে এই ‘বাংলা পেস যুদ্ধ’ প্রমাণ করল—বাংলাদেশের পেসাররা এখন আর কেবল ঘরোয়া ক্রিকেটেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি মঞ্চেও আলো ছড়াতে জানেন।