২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছাল

নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছাল

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্যের মরদেহ শনিবার সকালে ঢাকায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে নিহত শান্তিরক্ষীদের বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিহতদের স্বজনেরা বিমানবন্দরে তাঁদের শেষ শ্রদ্ধা জানান।

আইএসপিআরের তথ্যমতে, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আরও নয়জন আহত হন।

নিহতরা হলেন—নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।

হামলায় আহত নয়জন শান্তিরক্ষী বর্তমানে কেনিয়ার নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং বাকিরাও শঙ্কামুক্ত। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী সদস্য রয়েছেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ১৯৮৮ সালে প্রথমবার শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬৮ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছে এবং প্রথমবারের মতো ডিআর কঙ্গোতে সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।