ঢাকার কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে ১৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ব্যাপক ভাঙচুরের পর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে অফিসের বড় একটি অংশ পুড়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যায়।
হামলার সময় অফিসে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীরা অনলাইন সংবাদ পরিচালনার পাশাপাশি পরদিনের মুদ্রিত পত্রিকা প্রকাশের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। হঠাৎ এই আক্রমণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন এবং প্রাণ বাঁচাতে অফিস ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রথম আলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পর বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই হামলার কারণে প্রথম আলোর ২৭ বছরের পথচলায়—সংবাদপত্রজনিত ছুটি ছাড়া—এই প্রথম কোনো সাধারণ দিনে পত্রিকাটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয় প্রথম আলোর অনলাইন কার্যক্রমও।
একই রাতে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়েও হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রথম আলো মনে করছে, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে।
প্রথম আলোর বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টাও এতে স্পষ্ট।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রথম আলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, দ্রুত অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হবে এবং আগামীকাল থেকে নিয়মিতভাবে পত্রিকা প্রকাশ শুরু হবে।