১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

১৪ কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

১৪ কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

‘সচিবালয় ভাতা’র দাবিতে আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে সচিবালয়ের ১৪ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আদালত চার্জশিট গ্রহণ করায় সরকারি বিধি অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।

গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে এসব কর্মচারীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর সচিবালয় ভাতা আদায়ের দাবিতে সচিবালয়ে কর্মচারীদের একটি অংশ আন্দোলনে নামেন। বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের নেতৃত্বে হওয়া ওই কর্মসূচিতে অর্থ উপদেষ্টাকে প্রায় ছয় ঘণ্টা তার দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। দুপুর আড়াইটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি দপ্তর ত্যাগ করতে পারেননি। পরে পুলিশের সহায়তায় তিনি সচিবালয় ত্যাগ করেন।

পরদিনও কর্মচারীরা আন্দোলন অব্যাহত রাখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। সচিবালয়ের ভেতর থেকেই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তাদের রিমান্ডও মঞ্জুর করেন।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি শাহীন গোলাম রাব্বানী ও নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মো. তায়েফুল ইসলাম, বিকাশ চন্দ্র রায়, ইসলামুল হক, মো. মহসিন আলী, রোমান গাজী ও আবু বেলাল; তথ্য মন্ত্রণালয়ের মিজানুর রহমান সুমন; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কামাল হোসেন ও মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান; অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিপুল রানা বিপ্লব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নাসিরুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মামলায় চার্জশিট গ্রহণ হওয়ায় সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুসারেই এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারী কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সচিবালয় ভাতার দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও, অন্যরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছেন।