রাজনীতির উত্তপ্ত সময়ের মাঝেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিঃশব্দ যুদ্ধ চলছে রাজধানীর হাসপাতালে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে উদ্বেগ এখনও কাটেনি, তবে নিভৃতে মিলছে স্বস্তির ছোট ছোট খবর। চিকিৎসকরা বলছেন—“উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু গতি খুব ধীর।”
২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ২৭ নভেম্বর তাকে স্থানান্তর করা হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ)। সেখানেই এখন তাঁর চিকিৎসা চলছে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে।
বোর্ড সূত্র জানায়, বয়সজনিত জটিলতার পাশাপাশি একাধিক পুরোনো রোগ তার সুস্থতা প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে। লিভারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিডনি ফাংশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছে চিকিৎসক দল। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস দিতে হচ্ছে তাকে। ডায়ালাইসিস বন্ধ হলেই অবনতি দেখা দিচ্ছে শারীরিক অবস্থায়।
যে আশা ঘিরে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল, আপাতত সেই পরিকল্পনায় বিরতি পড়েছে। চিকিৎসাবোর্ডের মতে, এই অবস্থায় দীর্ঘ বিমানভ্রমণ নিরাপদ নয়। ফলে নির্ধারিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। দুই দফা পিছিয়েছে যাত্রার সম্ভাব্য সূচি।
চিকিৎসকদের মতে, “উন্নতি আছে, কিন্তু নাটকীয় নয়।” প্রতিদিন নতুন করে রক্তপরীক্ষা, শারীরিক সূচক এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে চিকিৎসার ডোজ ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সিসিইউর বাইরে প্রায় সারাক্ষণ উপস্থিত থাকছেন তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি চিকিৎসা-সমন্বয়ের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ যেমন আছে, তেমনি প্রার্থনার ঢলও থেমে নেই। রাজনীতির মঞ্চ যতই উত্তাল হোক, হাসপাতালের সিসিইউর ভেতরে চলছে ভিন্ন এক নীরব লড়াই—সময়, বয়স ও জটিল রোগের বিরুদ্ধে।
একটি প্রশ্নই আপাতত সবার মনে: ধীর এই উন্নতি কি আনবে স্বস্তির বড় খবর?
তার উত্তর আপাতত সময়ই দেবে।