আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে বহুদিনের টানাপোড়েন আবারও রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কান্দাহারের স্পিন বোলদাক ও পাকিস্তানের চামান সীমান্তঘেঁষা এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
স্পিন বোলদাক জেলার গভর্নর আব্দুল করিম জাহাদ জানান, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎই গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে নিহত চারজনই সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পাকিস্তানের চামান শহরের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কাছে নেওয়া তিন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর উভয় দেশই একে অপরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স-এ লিখেছেন, ‘পাকিস্তানই প্রথম স্পিন বোলদাক সীমান্তে গোলাগুলি শুরু করেছে। আমাদের বাহিনী আত্মরক্ষার্থে জবাব দিয়েছে।’
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মুশাররফ জায়েদির দাবি, ‘আফগান তালেবান কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই প্রথম গুলি চালায়, পাকিস্তানি সেনারা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানায়।’
কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলি মোহাম্মদ হাকমাল বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী ভারী অস্ত্র ও মর্টার ব্যবহার করেছে, যাতে বেসামরিক কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অক্টোবরের সংঘর্ষের পর গৃহীত যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—সীমান্তে আবারও উত্তেজনা, আর সাধারণ মানুষের জীবনেই তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।