শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি পর্যটন এলাকা সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি পর্যটকের ভিড় দেখায়। এই সময়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট নিজস্ব হোমস্টে নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন হেরাথ গেদারা রোহান অনিল কুমারা। চা-বাগান ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার সৌন্দর্য দেখতে দেশি–বিদেশি ভ্রমণকারীদের কাছে তাঁর বাড়িটি ছিল জনপ্রিয়।
কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার তাণ্ডবে পুরো দৃশ্যপট বদলে গেছে। ভয়াবহ এই ঝড়–বন্যায় প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যুর পর কুমারা এখন বাধ্য হয়েছেন স্থানীয় একটি ত্রাণকেন্দ্রে অবস্থান করতে। কখন তিনি বাড়ি মেরামত করে আগের মতো ব্যবসা শুরু করতে পারবেন—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা।
প্রতিদিনই কেউ না কেউ ফোন করে কক্ষ বুক করতে চাইছেন, তবে কুমারা জানাচ্ছেন, “বাড়িটা দাঁড়িয়েই নেই ঠিকমতো। কখন আবার স্বাভাবিকে ফিরতে পারব, তা বলা যাচ্ছে না।”
ঘটনাটি দেখাচ্ছে শ্রীলঙ্কার একটি বড় বাস্তবতা—দেশটির পর্যটন খাত এখনো বড় অংশে ছোট উদ্যোক্তাদের ওপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক আয়েও এই খাতের অবস্থান তৃতীয়, যা জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ।
ডিটওয়ার ধাক্কা: অবকাঠামো থেকে কৃষি—সবখানে বিপর্যয়
ঘূর্ণিঝড়টি দেশের ২২ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশকে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
হাজারো ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বহু মানুষ নিখোঁজ।
ঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎলাইন, টেলিকম সুবিধা ও কৃষি উৎপাদনব্যবস্থা।
অথচ বছরজুড়ে পর্যটন ছিল শ্রীলঙ্কার বড় আশার জায়গা। নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আগমনকারী পর্যটক সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। সরকার বছরের শেষে এই সংখ্যা ২৬ লাখে পৌঁছাবে বলে আশাবাদী ছিল—মহামারির পর যা হতে পারত সবচেয়ে বড় সাফল্য।