২৯ নভেম্বর, ২০২৫

তারেক রহমানের দেশে আসাতে সরকারের আপত্তি নেই

তারেক রহমানের দেশে আসাতে সরকারের আপত্তি নেই

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ আবারও নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরার জোর আলোচনা চললেও, তারেকের সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট হয়েছে—ফেরার সিদ্ধান্তটি তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং জড়িত আছে আরও নানা রাজনৈতিক ও আইনি বিবেচনা।

তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ‘অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’। এই বাক্যবন্ধ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে দুটি সম্ভাব্য সংকেত দেয়—
(১) দলীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনাই তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করছে, এবং (২) দেশে ফেরার ক্ষেত্রে শুধু সরকারের অবস্থান বা পরিবারের প্রয়োজন নয়, আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা–ঝুঁকি ও আইনি জটিলতার প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই। সরকারের এই অবস্থান মূলত রাজনৈতিক দায়মুক্তির সংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে, যাতে স্পষ্ট হয় যে—তারেকের না ফেরাটা সরকার-আরোপিত কোনো নিষেধের কারণে নয়।

এই দুই পক্ষের বক্তব্যের ফারাকই মূল রাজনৈতিক প্রশ্নটিকে সামনে আনে:
তাহলে বাধা কোথায়?

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত–প্রক্রিয়া, চলমান মামলাগুলোর বাস্তবতা, বিদেশে অবস্থানের কূটনৈতিক মাত্রা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি—এসব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গটি এক জটিল সমীকরণ। বিশেষত ওয়ান–ইলেভেন পরবর্তী বাস্তবতায় তিনি যে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে আছেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখা হয়।

এদিকে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার চাপ হয়তো তারেকের ওপর আরও বেড়েছে। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট ইঙ্গিত দেয়—বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত।

ফলে বোঝা যাচ্ছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এখনো নিশ্চিত কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং পরিস্থিতিনির্ভর, বহুস্তরীয় আলোচনার ফসল—যার চূড়ান্ত ফলাফল বের হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।