২৬ নভেম্বর, ২০২৫

বাগমারা'য় সরকারি বিদ্যালয়ের দপ্তরীর হাতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের-অভিযোগ

বাগমারা'য় সরকারি বিদ্যালয়ের দপ্তরীর হাতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের-অভিযোগ

রাজশাহীর বাগমারা'য় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরীর হাতে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী মারধোরের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার ৫৫ নং হাটগাঙ্গোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীর অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দপ্তরী সোহেল রানা (৩৬) মেধাবী শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন (৮)-কে শ্রেণিকক্ষে আগে প্রবেশের অভিযোগে কিল -ঘুষি, চড়–থাপ্পড়সহ বেধড়ক মারধোর করেন।

মারধোরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুটি, অসুস্থ হয়ে ক্লাস পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারেনি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ফুলা দাগ দেখা গেছে বলে অভিভাবক নিশ্চিত করেছেন।
শিশুটির বাবা মাহাবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়েকে কোনো কারণ ছাড়াই নৃশংসভাবে মেরেছে সোহেল রানা।

শুধু আমার মেয়েই নয়, এর আগেও বহু শিশুকে সে মারধোর করেছে। এমন একজন উশৃঙ্খল ও বদমেজাজি লোক বিদ্যালয়ে থাকলে কোনো বাচ্চাই নিরাপদ না। আমরা তার কঠোর শাস্তি চাই।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দপ্তরী সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছেন।

তিনি স্থানীয় হওয়ায় মানসম্মানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা বলেন, বিদ্যালয়ে এমন ব্যক্তির উপস্থিতি পুরো শিক্ষার পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, আমি শ্রেণিকক্ষে ছিলাম। মারধোরের ঘটনা আমিও শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

অভিযোগ অস্বীকার করে দপ্তরী সোহেল রানা দাবি করেন, বাচ্চাটা রুম থেকে বের হচ্ছিল না, তাই ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছি। মারধোর করিনি। এদিকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

এবিষয়ে মুঠোফোনে বাগমারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের কপি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ সচেতন মহল দ্রুত দোষীর শাস্তি ও বিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।