পাবনার সাঁথিয়ায় বিভিন্ন প্রকার সরকারি ভাতা দেবার কথা বলে দারিদ্র, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিলা ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে।
টাকা নিয়ে ভাতা করে না দেওয়ায় ইউপি সদস্যের দ্বারে ঘুরছে অসহায় মানুষেরা। এদিকে উৎকোচের টাকা ফেরত চাওয়ায় পাল্টা হুমকি দেবার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউপি সদস্য জামিরনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য জামিরন খাতুন বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে অসহায়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মৃত হোসেন মুন্সীর স্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত অসহায় জয়বাহার খাতুনের নিকট থেকে বিধবা ভাতার কার্ড দেবার কথা বলে তিন হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে। দীর্ঘ তিনবছর হলেও ইউপি সদস্য জামিরন ভাতার কার্ড করে না দিয়ে উক্ত টাকা আত্মসাত করে। হতদরিদ্র জয়বাহার খাতুন জানান, অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেম্বারকে তিন হাজার টাকা দেই। টাকার অভাবে ঔষুধ না কিনেও টাকা জামিরনকে দেই। সে আজ পর্যন্ত আমাকে ভাতার কার্ড করে দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেয়। আমার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় মেয়ের বাড়ি ও স্বজনদের বাড়িতে থাকি। নিজের নেই কোন মাথা ঘোজার ঠাঁই।
কমেলা খাতুন জানান, লাভের উপর টাকা নিয়ে জামিরন মেম্বারকে দেয়া হয় ভাতার কার্ডের জন্য। লাভের উপর আনা টাকা পরিশোধ করতে ৯ শত টাকা লাভ দেয়া হয়। তিন বছর হলেও আমার স্বামীর নামে কোন কার্ড ইস্যু করা হয়নি।
একই গ্রামের প্রতিবন্ধী বারেক শেখ জানান, আমাকে ভাতার কার্ড করে দেবে বলে জামিরন মেম্বার তিন হাজার টাকা নেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাতার কার্ড করে দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামিরন খাতুন জানান, ভাতার জন্য একজনের নিকট থেকে ২ হাজার টাকা নিয়ে ছিলাম। সময় হলে তাকে ভাতার কার্ড করে দিবো। গর্ভবতী ভাতা বিষয়ে তিনি বলেন তাদের ভাতা করে দেয়া হয়েছে। তারা এখন মিথ্যা কথা বলছে।