২৪ অক্টোবর, ২০২৫

‘আপনার বউসহ পুরো পরিবারকে কীভাবে বাঁচাবেন,  সেটা ঠিক করে রাখবেন’

‘আপনার বউসহ পুরো পরিবারকে কীভাবে বাঁচাবেন,  সেটা ঠিক করে রাখবেন’

‘আপনি যে অন্যায় কাজটি করলেন, আল্লাহ যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, মনে রাখবেন, আপনার বউসহ পুরো পরিবারকে কীভাবে বাঁচাবেন, রক্ষা করবেন, সেটা ঠিক করে রাখবেন। আপনার বিষয়টি নোট করে রাখা হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ভারতীয় নম্বর থেকে এভাবেই নাটোর জেলা কারাগারের জেলার শেখ মো. রাসেলকে হুমকি দেন নাটোর-২ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম শিমুল।

শিমুল নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বুধবার রাতে সরকারি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে হুমকিমূলক বার্তাটি পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জেলার শেখ মো. রাসেল নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জেলার শেখ মো. রাসেল বলেন, হুমকির বার্তা পেয়ে পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছেন তিনি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তার সরকারি নম্বরে প্রথম কলটি আসে ভারতীয় একটি হোয়াটসঅ্যাপ থেকে। নিজেকে নাটোর-২ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে পরিচয় দিয়ে জেলারের সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে নিজের ঘনিষ্ঠ মো. কোয়েল বৃহস্পতিবার জামিনে ছাড়া পাবেন। কোয়েল হত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলার আসামি হওয়ায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তারের ভয় আছে। জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছানো বা জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা বা অন্য কাউকে না জানানো হয়।

জেলার শেখ রাসেল আরো বলেন, কোয়েল কুষ্টিয়া কারাগারে থাকলেও বুধবার নাটোরের একটি মামলা থেকে জামিন হয়। জামিনের সেই কাগজটিই গোপেনে কুষ্টিয়া পাঠানোর জন্য বুধবার রাতে দ্বিতীয় দফায় এমপি শিমুল হোয়াটসঅ্যাপে অডিওবার্তা পাঠান। সেখানেও তিনি কোয়েলের জামিনের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। 

সূত্র বলছে, একাধিক মামলার আসামি কোয়েলকে অন্য মামলায় হাজিরা দিতে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর কুষ্টিয়া কারাগারের ফটক থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ পুনরায় কোয়েলকে গ্রেপ্তার দেখায়। মূলত ঘনিষ্ট সহচরকে কারাগারের ফটক থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন শিমুল। একারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১ মিনিটে ও ৯ মিনিটে একই নম্বর থেকে জেলারকে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেন শিমুল।

নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুর রহমান বলেন, নাটোর জেলা কারাগারের জেলারের দেওয়া সাধারণ ডায়েরি পেয়েছেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।