উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার গয়হাট্টা পারকুল গ্রাম থেকে আমিনুল ইসলাম তুহিন (৩৭) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে।আমিনুল এই গ্রামের শামসছুল আলম ভোলার ছেলে। পুলিশ আমিনুল ইসলামের শোবার ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। তার গলায় বিছানার চাদর পেঁচানো ছিল। আমিনুল ইসলাম তুহিনের মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছে তার পরিবার ও পুলিশ।
আমিনুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, তার স্বামী স্বাভাবিকভাবেই আগের রাতে তার শোবার ঘরে শুয়েছিলেন। তিনিও (স্ত্রী) পাশেই ঘুমান। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার পর ফজরের আজান দিলে তিনি ঘুম থেকে উঠে অজু করে পাশের ঘরে নামাজ পড়েন। ভোরে বিছানা ত্যাগ করার সময় তার স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে যান তিনি।
নামাজ শেষে সংসারের কাজকর্ম সেরে সকাল ৮টার দিকে স্বামীকে ডাকার জন্য ঘরে গিয়ে দেখতে পান স্বামীর গলায় বিছানার চাদর পেঁচানো। পরে তার গায়ে হাত দিয়ে ডাকতে গেলে তাকে মৃত অবস্থায় দেখা যায়। এরপর তিনি চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসেন।
সে সময় উল্লাপাড়া থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। নিহত আমিনুল ইসলামের বাবা শামছুল আলম ভোলা পক্ষাঘাতে (প্যারালাইসিস) আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে পঙ্গু হয়ে আছেন।
তার কথাও বোঝা যায় না। আমিনুলের বৃদ্ধ মাও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না। আমিনুলসহ তার আরও ৫ ভাই আছেন। তারা সবাই অন্য জায়গায় পৃথকভাবে বসবাস করেন।
এসব ভাইয়েরাও আমিনুলের মৃত্যুর কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। বাড়িতে আমিনুল তার বাবা-মা ও স্ত্রী হিসাবে রুমা খাতুন বসবাস করেন।
রুমা আরও জানান, তার স্বামী বিছানার চাদর গলায় জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছেন নাকি অন্য কোনভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ সেলিম জানান, তিনি উক্ত গ্রামে আমিনুলের মরদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে জেনেছেন সে মাদকাসক্ত ছিল।
প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুটি রহস্যজনক বলে তিনি মনে করেন। নিহত আমিনুলের গলায় বা শরীরের কোথাও কোন দাগ নেই।
প্রতিবেশীরাও এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেনি। এ অবস্থায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ এই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবেন না। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মুনসুর আলী হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত আমিনুলের পরিবার থেকে থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি।