১ অক্টোবর, ২০২৫

বাল্যবিয়ে করতে এসে বরের জেল

বাল্যবিয়ে করতে এসে বরের জেল

 বাল্যবিয়ে করতে আসার অপরাধে বর বাহারুল ইসলামকে (২৫) দুই মাসের জেল দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ এই রায় দেন।

বুধবার সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর নতুনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করা হয়। শিক্ষার্থী ইতি খাতুন ওই গ্রামের শামসুল হকের মেয়ে।

নাজিরপুর উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি খাতুনকে বুধবার বিয়ের সাজে সাজানো হয়েছিল। বাল্যবিয়ের কবল থেকে রক্ষা পেয়ে ইতি খাতুন জানায়, ‘অনেক দূর পর্যন্ত লেখা-পড়ার ইচ্ছে আমার। কিন্তু পিতা মাতা আর প্রতিবেশির চাপে পড়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছিল। সময় মতো এসে বাল্যবিয়েটি বন্ধ করায় ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা। এখন আবার বিদ্যালয়ে যেতে পারবো, সহপাঠিদের সঙ্গে খেলা করতে পারবো-ভেবে আনন্দ হচ্ছে।’

বাল্যবিয়ে করতে আসা বর বাহারুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের নবির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। মেয়ে দেখতে শুনতে ভালো হওয়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী। তিনি বলেন, বার বার বাধা নিষেধ করলেও কন্যার পিতা সামসুল তা মানেননি।

নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শফিকুল ইসলাম শিক্ষক বলেন, দূরন্ত ও চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে ইতি শিক্ষার্থী হিসেবে খুব ভালো। শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাতেও পারদর্শি। অথচ খেলাপড়া বন্ধ করে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিল পরিবারের লোকজন। শিক্ষক হিসেবে তিনি বাল্য বিয়েটি বন্ধের জন্য চেষ্টা করেছেন। বিয়ে বন্ধ করে বরের জেল-জরিমানায় তিনিও খুশি। বরের জেল-জরিমানার বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আলোচনা করা হবে। যাতে ব্যাবিয়ের সম্পর্কে জেনে নারী শিক্ষার্থীরা বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে আরো সাহসী হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিয়ে বাড়িতে অভিযান চালান তিনি। এসময় বরকে হাতেনাতে ধরা হয়। বাল্যবিয়ের শাস্তি হিসেবে ২ মাসের জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে মেয়ের পরিবারকেও।