২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পদোন্নতির পর জুলাই গণহত্যার সমর্থনকারীকে শিক্ষা ছুটি দিলেন গোবিপ্রবির উপাচার্য

পদোন্নতির পর জুলাই গণহত্যার সমর্থনকারীকে শিক্ষা ছুটি দিলেন গোবিপ্রবির উপাচার্য

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমদাদুল হক সোহাগকে পদোন্নতির পর শিক্ষা ছুটি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সোহাগ জুলাই গণহত্যায় সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নাম-ঠিকানা সরবরাহ করে গুরুতর অপরাধ করেছেন। তার বিরুদ্ধে নারী নিপীড়ন, ধর্ম অবমাননা, ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মোহাম্মদ আলী ত্বহা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরোধীদের বিচার শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ছিল। কিন্তু নানা কৌশলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়েছে। এর মধ্যেই সোহাগকে পদোন্নতি ও বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায় এড়ানোর প্রমাণ।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহবায়ক বেলাল হোসাইন আরিয়ান বলেন, “গণহত্যার সমর্থক ও স্বৈরাচারের মুখপাত্রকে শিক্ষা ছুটি দেওয়া শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এনামুজ্জামান জানান, শিক্ষা ছুটির সিদ্ধান্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে আসায় তারা কেবল বাস্তবায়ন করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দীন শেখর বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত একজন শিক্ষক সব অধিকার ভোগ করবেন।”

তবে বিচার দীর্ঘায়িত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, “আমরা সবাই একই ঘরানার মানুষ। অনেকে বাড়াবাড়ি করছে, অনেকে কম করছে। তাই বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি। শুধু সোহাগ নয়, তাকে রক্ষায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, এর আগেও পদোন্নতি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল।