২৫ জুলাই, ২০২৫

বার্ন ইউনিটে আরো দুইজনের মৃত্যু

বার্ন ইউনিটে আরো দুইজনের মৃত্যু

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্তে বিমানটিকে জনশূণ্য এলাকায় নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন পাইলট লেফটেন্যান্ট তৌকির আহম্মেদ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাইলট মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

এসব তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল। আজ সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মাইলস্টোনের দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় এ তথ্য জানান তিনি।

আজ বেলা সোয়া ১টার দিকে স্কুল ভবনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে প্রশিক্ষণ বিমানটি উড্ডয়ন করে। পরে বিধ্বস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, আজ বিমানবাহিনীর একটি এফ-সেভেন বিজেআই ফাইটার এয়ারক্র্যাফট আনুমানিক দুপুর একটার দিকে আমাদের মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরা শাখার দোতলা স্কুল ভবনে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করেছে। এই দোতলা ভবনের প্রথম তলায় ছিল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বাচ্চাদের ক্লাস। দ্বিতীয় তলায় ছিল দ্বিতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। তার সাথে ছিল অধ্যক্ষের অফিস মিটিং রুম। একটা কোচিংয়ের ক্লাস চলমান ছিল। ক্র্যাশ ল্যান্ডিং যখন হয়, তখন স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল। ওই সময় যে জায়গায় টিচার্স  রুমের সাথে যে ল্যান্ডিং হয়, আঘাত করে, ওই জায়গায় বাচ্চারা জড়ো হয়েছিল। তাদের সাথে হয়তো কিছু অভিভাবকও ছিল।’

ফায়ার সার্ভিস আনুমানিক বেলা ১টা ৮মিনিটে দুর্ঘটনার খবর পায় জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘দ্রুত আমাদের ইউনিট পৌঁছে যায় এবংউদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আমাদের মোট ৯টি ইউনিট এখানে কাজ করছে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ অবস্থায় আছে এবং আমরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছি।’

হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত আমরা ১৯ জনের ডেড বডি উদ্ধার করেছি। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে আছে। এখানে সেনাবাহিনী এবং আমাদের ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ অন্যান্য সবাই মিলে আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমাদের উদ্ধাকাজ চলমান আছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে আমরা টোটাল ক্ষয়ক্ষতির ফিগারটা আপনাদেরকে বলতে পারব।’

আহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হবে জানিয়ে মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ‘যারা নিহত , এখনো তাদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি, সময় লাগবে। আমোদের ধারণা, অধিকাংশই শিশু।’

ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদকর্মীরা জানান, মাইলস্টোন কলেজের সামনে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। কলেজের বিধ্বস্ত ভবন থেকে একের পর এক এ্যাম্বুলেন্স বের হচ্ছে। এখন সেখান থেকে আহত মানুষদের জন্য রক্ত দেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।