২৩ জুলাই, ২০২৫

‘নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়েছি, আমি সেই অতভাগ্য পিতা’: পাইলট তৌকিরের পিতা

‘নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়েছি, আমি সেই অতভাগ্য পিতা’: পাইলট তৌকিরের পিতা

‘নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়েছি, আমি সেই অতভাগ্য পিতা। আমার সন্তানের জন্য সবাই দোয়া করবেন। দোয়া করবেন প্রাণ হারানো সবার জন্য।’ ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের জানাজায় ডুকরে কেঁদে এই আকুতি জানান তৌকিরের পিতা তহুরুল ইসলাম।  

রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে তৌকিরের জানাজায় অংশ নেয় স্থানীয় লোকজনও। উপস্থিত ছিলেন আত্মীয়স্বজন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেনসহ সেনা ও বিমানবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। জানাজা শুরুর আগে নিহত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের জীবনী পড়ে শোনানো হয়। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তৌকিরের বাবা তহুরুল ইসলাম ও মামা মতিউর রহমান। জানাজা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নগরের সপুরা গোরস্তানে তাকে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। দাফনের সময় সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তৌকিরের মরদেহ ঢাকা থেকে রাজশাহী সেনানিবাসে নেওয়া হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩টা ২০ মিনিটে সেনানিবাস সংলগ্ন নগরের উপশহরের ৩ নম্বর সেক্টরে ভাড়া বাসায় নেওয়া হয় তৌকিরের মরদেহ। তৌকিরের মরদেহ ঘিরে অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে। বাড়ির সামনে কিছু সময় মরদেহবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সটি রাখা হয়। পরে জানাজার জন্য মরদেহ নেওয়া হয় জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, লেফটেন্যান্ট তৌকিরের বাবা তহুরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে। তবে তারা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রাজশাহী শহরে বসবাস করছেন। একমাত্র ছেলে তৌকিরের বেড়ে ওঠাও রাজশাহী নগরীতেই। তৌকির রাজশাহীর ল্যাবরেটরি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে পাবনা ক্যাডেট কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০১৪ সালে এসএসসি ও ২০১৬ সালে এইচএসসি পাস করে বিমানবাহিনীতে যোগ দেন।

তহুরুল ইসলাম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বছরখানেক হলো তার ছেলে বিয়ে করেছিলেন। পূত্রবধূও রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। ছেলে ও পূত্রবধূ ঢাকাতেই থাকতেন। প্রথমবারের মতো বিমান উড়ানোর খবরে আনন্দে তারাও আকাশের দিকে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু একটা দুঃসংবাদ সব শেষ করে দিল। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়।

এদিকে প্রশিক্ষণের শেষ ধাপে গত সোমবার একা (সলো) যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে উড়েছিলেন তৌকির। একজন বৈমানিকের জীবনে এটি বিশেষ দিন। তৌকির ইসলাম প্রথমবারের মতো একা প্রশিক্ষণ বিমান চালাবেন এ খবরে পরিবারের সদস্যরা সোমবার সকাল থেকেই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত ছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর সেই বিমান বিধ্বস্ত হয় রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার খবরে সঙ্গে সঙ্গে উচ্ছ্বাস বিষাদে রূপ নেয়। এতে তৌকির প্রাণ হারান। তৌকিরের বাড়িতে কান্নার রোল শুরু হয়। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।