সংস্কারকাজ শেষ না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কর্পেটিং করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে যে কেউ হাত দিয়ে টান দিলেও কার্পেটিং উঠে আসছে। সংস্কারের পরই কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানহীন ও নিম্ননমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় সড়কের এমন বেহাল অবস্থা। শুধু তাই নয়, গেল কয়েকদিনের বৃষ্টি চলাকালীন সময় সড়কের জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণ করেই চলেছে পিচ ঢালাই এর কাজ। নিম্নমানের সংস্কার কাজের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই এই সড়কটি ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশংকা তাদের।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুর পাকা সড়ক(এক্সেন হাউজ) হাসিমপুর পাকা সড়ক উন্নয়নের ৭৩০ মিটার কাজটি ৫০ লাখ ৯৪হাজার ৮৭৩ টাকা সাতশত পঞ্চাশ পয়সা চুক্তিমূল্যে পায় পোরশা উপজেরার মতিউর রহমান নামে ঠিকাদার। পরে কাজটি কিনে মান্দা উপজেরার শহিদুল ইসলাম আর কাজটির দেখভালের দায়িত্বে ছিলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল-আমিন।
সরেজমিনে ২৮শে মে বুধবার বিকেলে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার কার্পেটিং বিভিন্ন যায়গায় উঠানো। ছোট্ট বাচ্চাদের দেখা যায় কার্পেটিং তুলে খেলা করছে।
রাস্তার কাজের ব্যপারে জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, গত ২৫শে মে রবিবার থেকে রাস্তার কার্পেটিং এর কাজ করতে শুরু করে ঠিকাদার। শুরু থেকে ধুলোবালি ঠিকমতো পরিষ্কার করে নি, রাস্তায় বিটুমিনের আবরণ নেই এর মাঝে বৃষ্টির মধ্যে সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হচ্ছিল। বাধা উপেক্ষা করে অফিসের লোকজনকে ম্যানেজ করে ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রাখেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় আরেকজন জানান, বৃষ্টির মাঝেই রাস্তার কাজ করা হয়েছে। চটের বস্তা দিয়ে রাস্তার পানি মুছে তারপর পিচ ঢালাই করা হয়েছে। আমরা অশিক্ষিত মানুষ, আমরাই জানি বৃষ্টির মধ্যে পিচ ঢালাই করলে সেটা থাকে না। পানিতে পিচ ঢালাই করলে সেটা যে থাকবে না, এটা কি কন্ট্রাক্টর আর ইঞ্জিনিয়াররা জানে না!
মটরসাইকেলে সড়ক দিয়ে যাচ্চিলো উপজেলা জামায়াতের সাধারন সম্পাদক আহসান হাবীব তার সাথে হলে তিনি বলেন , হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে যাচ্ছে। কতটা দুর্নীতি ও অনিয়ম হলে সড়কটির এমন পরিণত হয়। সড়কটি সংস্কারে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করা হয়েছে, তাই হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে।’
এ ব্যপারে রাস্তার কাজে তদারকির দ্বাযিত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল-আমিন বলেন, শেষ গাড়িতে মিক্সিং একটু সমস্যা হয়েছিলো। আর বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার জন্য ১৫ মিটারের মতো সড়কে সমস্যা হয়েছে। আমি মিক্সিং সাইটে ছিলাম।
স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘ দিন পর নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের কারসাজিতে রাস্তাটিতে নিম্নমানের কাজ করেছে। তাই রাস্তাটি ভেঙে পড়ছে। রাস্তায় কাজের সময় পিচ ঠিকমত দেয়নি। কোনো রকম করে হালকাভাবে পিচ দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। তাই এই কার্পেটিং শক্ত হয়নি। হাতের টানেই এই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
নিন্মমানের কাজের ব্যপারে জানতে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি।
এ ব্যপারে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহিনূল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের একটু সমস্যা হয়েছে এটা শুনেছি আর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঠিকাদারের সাথে কথা বলেছি ঠিকাদার পুনরায় কাজ করে দিচ্ছে।