লিও নামের একটি বাজরিগার প্রজাতির বাচ্চা পাখি হারিয়ে গেছে। এর গায়ের রঙ সাদা, নীল ও কালো। পাখিটি কেউ খুঁজে পেয়ে দিলে তাকে ৩ হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে- এমন একটি পোষ্টার দেওয়া হয়েছে উল্লাপাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন অফিস, বাড়ি ও সড়কের পাশের দেয়ালে।
দু’দিন ধরে চোখে পড়ছে এই পোষ্টারটি। পাখিটির মালিক রিয়াদ হাসান। তিনি উল্লাপাড়া পৌর
শহরের ঝিকিড়া মহল্লার বাসিন্দা। অস্ট্রেলিয়ার বাজরিগার জাতের দুটি বাচ্চা তিনি ঢাকা থেকে কিনে বাড়িতে পোষা শুরু করেন। এর একটির নাম দিয়েছেন লিও ও অপরটির নাম কোকো।
এদের বয়স প্রায় ৪ মাস। লিও’র সঙ্গে কোকোর বেশ ভাব। দুজনে রিয়াদ হাসানের ছাদে গিয়ে খেলা করে এবং বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সঙ্গে ওরাও উড়ে বেড়ায়। রিয়াদসহ তার বাড়ির লোকজনের ঘারে উঠেও বসে থাকে ওরা। এদের মধ্যে লিও নামের বাচ্চা বাজরিগার পাখিটি গত ১০ এপ্রিল ছাদ থেকে হারিয়ে যায়।
লিও হারিয়ে যাওয়ার পর কোকো এখন সব সময় বিমর্ষ হয়ে থাকে। গোটা বাড়ি ও ছাঁদে খুঁজে বেড়ায় তার সঙ্গীকে। ইতোমধ্যেই কোকো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বাড়ির লোকজনেরও দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই।
রিয়াদ হাসান জানান, প্রায় ১ মাস ধরে লিওকে ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি অনেক খোঁজাখুঁজি করেছেন। কিন্তু পাননি। অবশেষে তার পাখির ছবি দিয়ে পোষ্টার ছেপে ৩ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষনা করে শহরের বিভিন্নস্থানে পোষ্টার সেঁটে দিয়েছেন।
পাখিটির সঙ্গে তার হৃদয়ের সম্পর্ক উল্লেখ করে তিনি জানান, পাখিটি ফিরে পাওয়া তার ও তার পরিবারের জন্য খুবই প্রয়োজন। লিও’র সঙ্গী কোকোকে বাঁচাতেও বাজরিগার এই পাখিটিকে পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। রিয়াদ হাসান বলেন, তার লিওকে কেউ খুঁজে দিলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুরষ্কারের টাকা দিয়ে দেবেন।
এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীসহ তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রসঙ্গতঃ বাজরিগার প্রজাতির পাখি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল অঞ্চলসহ সমগ্র বনাঞ্চলে দেখা যায়। পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম মেলোপসিটাকাস আনডুলাটাস।