পুষ্পিতা হস্পিটাল এ ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মেডিসিন এর একজন এসোসিয়েট প্রফেসর স্যার এসে দেখে গিয়েছেন। জেনেরাল এক্সামিনেশন করেছেন স্যার নিজেই। শরীরের অনেক জায়গায় র্যাশ, লিম্ফাএডোনোপ্যাথি সাথে প্লীহা বড়।
স্যার পুষ্পিতা কে জিজ্ঞেস করেছিলেন তার জয়েন্ট পেইন আছে কিনা। উত্তর হ্যাঁ সূচক। স্যার যেটা সন্দেহ করছেন সেটাই কিছুটা ইংগিত দিয়েছেন আরাশ কে। এটা শোনার পর থেকেই আরাশের পুরো পৃথিবী এলোমেলো হয়ে গেছে।
সে স্যার এর কাছ থেকে এসব শুনেই চলে এসেছে পুষ্পির কাছে। সেই অজানা ভয়ের চোখ দুটোই সে দেখতে পেয়েছে আরাশের চোখে। পুরুষের চোখের জল দেখা যায়না। তারা সেটা কাওকে দেখতে দেয়না।ভালবাসার তীব্র আবেশে অথবা হারানোর সুতীব্র ভয়ে যে পুরুষের চোখ থেকে জল বের হয়,সেটা যে নারী দেখতে পায় সে নারী ভাগ্যবতী। আপাতত পুষ্পিতা ও সেটা দেখতে পাচ্ছেনা। অথচ সে বুঝতে পারছে সবই। আরাশ কে তার চেয়ে ভাল যে আর কেউ বোঝেনা।
অনেক টেস্ট দিয়েছে। সব একাই করছে আরাশ। পুষ্পিতার বাসায় জানানো হয়েছে। তার বড় ভাই এটা শুনেই অফিস থেকে ছুটে এসেছে। তারপর দুজন মিলেই সব করা শুরু করে। রিপোর্ট আসতে দেরি হবে।ততদিন একটু অপেক্ষা। সারাদিন অনেক দৌড়াদৌড়ি করে আরাশ টায়ার্ড।
সে কিছুক্ষনের জন্য হলে যায় ফ্রেশ হতে। সন্ধ্যার পরেই সে আবার ছুটে আসে পুষ্পিতার কাছে। তার জীবনের কাছে। যে জীবন তাকে বাচতে শিখিয়েছে। দেখতে শিখিয়েছে জীবন কত মধুর হতে পারে। সে জীবন আরাশ কিছুতেই হারাতে চায়না। কোন ভাবেই না।
আরাশ পুষ্পিতার পাশে হাত ধরে বসে আছে। ভাইয়া বাসায় গেছে সবার জন্য খাবার আনতে। আরাশ এর মাথা নিচু হয়ে আছে। তার প্রেমের,ভালবাসার চোখের দিকে তাকানোর সাহস হচ্ছেনা। পুষ্পিতার চোখে জল। এ জলের অনেক ভাষা। আরাশ সে ভাষা পড়তে চায়না। সে শুধু পুষ্পিতা কে চায়। পুষ্পিতার কাছ থেকে, পৃথিবীর কাছ থেকে,তার প্রার্থনার কাছ থেকে......
(চলবে....)