২ জানুয়ারি, ২০২৫

জাল দলিলে মোমিন উদ্দীনের জমি আত্মসাৎ করেছেন তার স্বজনরা

জাল দলিলে মোমিন উদ্দীনের জমি আত্মসাৎ করেছেন তার স্বজনরা

‘আমার সবকিছু আছে বাবা, তা  থাকতেও আমি বেতনা নদীর পাড়ে স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অসহায় অবস্থায় বসবাস করছি। এক বেলা জোটে অন্য বেলা জোটে না তারপরে তীব্র শীত একই ঘরের মধ্যে খাওয়া দাওয়া থাকা রান্না চলে আমাদের। আমার ভাইয়েরা  আমাকে অন্যায় ভাবে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। জমি জমা দখল করে নিয়েছে কার কাছে যে বিচার চাইবো কেউ আমাদের দেখে না কেউ আমাদের কথা শোনে না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার জুজখোলা গ্রামের বৃদ্ধ মোমিন উদ্দীন।

তিনি বলেন, তালা উপজেলার জুজখোলা মৌজায় ১২৮১,১২৮৩,১৩৮০ নম্বর দাগের ১ একর ২৩ শতক পৈত্রিক জমির মধ্যে ৪১ শতক জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু তার চাচাতো ভাই সিরাজুল রেজাউল  শাহজাহানসহ অন্য শরিকের লোক ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাকে বিতাড়িত করেছেন। তার  চার মেয়ে এবং স্ত্রী নিয়ে তার সংসার। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এখন প্রতিবন্ধী ছোট মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন।

মোমিন উদ্দীনের স্ত্রী  আছিয়া বেগম জানান, সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরায়। এই অভাবে মধ্যে কি ভাবে দিন পারকরছি শুধু আল্লাহ জানে। আমারা দুজন খুব অসুস্থ আমাদের শরীকের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়েছে  আমরা তাই নদীর পাড়ে বাস করছি।

মেয়ে সরবানু বেগম জানান, ‘আমারা চার বোন খুব অভাবের মধ্যে বড় হয়েছি। বাবার চাচাতো ভায়ের আমাদের জমি ফাঁকি দিয়ে নিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।তাই আমারা নদীর পাড়ে বাসবাস করছি। কিছুদিন আগে শুনলাম  নদী কাটবে  এখন আমরা যাবো কোথায়? সবশেষে তিনি তার জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবিব জানান, তিনি বৃদ্ধা মোমিন উদ্দীনের জমি দেখাশুনা করতেন। জমি বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া কারনে বৃদ্ধার চাচাতো ভাইয়েরা তাকে নানা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি  করেছেন। আদালত মামলা শুলো মিথ্যা বলেই খারিজ করে দিয়েছে।

এদিকে অভিযোগ আস্বীকার করে শাহাজান রেজাউল ও সিরাজুল জানান, মোমিন উদ্দীনের কোন জমি আমাদের মধ্যে নেই।ওর জমি তার নিজের ভাইয়ের মধ্যে পড়ে আছে।