কুমিল্লা তিতাস উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির হিড়িক পড়েছে। গত দুই মাসের মধ্যে ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের পূর্ব দড়িকান্দি হাজী তারা মিয়া সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে চোরেরা রাতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে সৌরবিদ্যুতে ব্যবহৃত ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, ৩টি ফ্যান, ১টি পিতলের ঘণ্টা, ওয়াইফাই রাউটার, ওজন মাপার মেশিন, পানির ফিল্টার ও ইলেকট্রিক চায়ের কেটলিসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
এর আগে একই প্রতিষ্ঠানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে চুরির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ করেও পায়নি কোন সুফল।
জানা যায়, গত ১০ ডিসেম্বর ভিটিকান্দি ইউনিয়নের রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙ্গে চোরেরা স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে যায়। অপরদিকে হরিণপুর এম.এ তাহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ১৯ নভেম্বর রাতে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, প্রিন্টার, ফিঙ্গার মেশিন ও স্পীকারসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে গত ২০ নভেম্বর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রফুল্ল চন্দ্র রায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও উপজেলার কড়িকান্দি দক্ষিণ, কদমতলী, আলীনগর, উত্তর আকালিয়া, রাজাপুর, আলীরগাও, তেতুয়ারামপুর, ওমরপুর, মজিদপুর পশ্চিম ও শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে পূর্ব দড়িকান্দি হাজী তারা মিয়া সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার বলেন, এক বছরে আমার স্কুলে দুইবার চুরি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। তাই এখন চুরি হওয়ার আতঙ্কে বর্তমানে স্কুলের প্রয়োজনীয় মালামাল বাসায় রাখি।
কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়নুন নাহার বলেন, আমার স্কুলে দুইবার চুরি হয়েছে। এতে স্কুলে মটর, সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি ও পানির ফিল্টারসহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এদিকে চুরি ঘটনায় থানায় কয়েকটি অভিযোগ করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা পারভীন বানু বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাসে উপজেলার ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাতে ১টি বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা বিদ্যালয়গুলোর ফ্যান, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সৌরবিদ্যুতে ব্যবহৃত ব্যাটারি, প্যানেল, পিতলের ঘণ্টা, প্রিন্টার, ওয়াইফাই রাউটার, ওজন মাপার মেশিন, পানির ফিল্টার, ইলেকট্রিক চায়ের কেটলি, কাপ স্কাউটের মালামাল, স্পীকার ও পরীক্ষার খাতাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এবিষয়ে ইউএনও এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় চুরির ঘটনা অবহিত করেছি। পাশাপাশি সকল শিক্ষককে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছি।
তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চুরি ঘটনায় দুইটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুক্ত/আরেফিন