১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

জাঙ্গুর স্মরণীয় অভিষেক যেভাবে দুঃস্বপ্ন হলো বাংলাদেশের

জাঙ্গুর স্মরণীয় অভিষেক যেভাবে দুঃস্বপ্ন হলো বাংলাদেশের

শুরুর ধাক্কাটা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। ৪ ফিফটিতে সংগ্রহ দাঁড়িয়েছিল ৩২১ রান। যে কোনো ওয়ানডে ম্যাচের এটি বড় রান-ই ধরা হয়। এই বছরে এটিই মিরাজদের সর্বোচ্চ রান। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেও বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ।

সুখ স্মৃতিতে ভরা ইনিংসে মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটির কথা আলাদা করেই বলতে হয়। কি দারুণ, স্মরণীয় একটি ওয়ানডে ইনিংস। খুব সম্ভবত ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিই হয়তো খেলতে নেমেছিলেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। দলের খেলোয়ারদের মধ্যে যেমন ছিলেন সবচেয়ে পুড়নো, তেমনি ইনিংসটিও খেলেছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৬৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের।

সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কের প্রসঙ্গ সামনে আনলে রান তোলায় মাহমুদউল্লার ধারেরকাছেও কেউ নেই। এই মাঠে তিনি করেছেন ৩৪১ রান। এতে ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে ১৭০.৫০। ৬ ইনিংসে ৫টিতেই ৫০ হাঁকিয়েছেন। অপরাজিত ছিলেন ৪ বার!

এমন লোভনীয় পরিসংখ্যান দেখেই ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ বলে ফেললেন, ‘মাহমুদউল্লাকে সেন্ট কিটসের নাগরিকত্ব দেওয়া হোক।’

দলীয় সর্বোচ্চ ৬৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেও হতাশ হয়ে ফিরতে হলো মাহমুদউল্লাহকে।—ছবি সংগৃহিত


এতোসব স্মরণীয় সুখের মুহুর্তগুলো ছাপিয়ে সেরা মাহমুদউল্লাহকে তৃতীয় ওয়ানডের মাঠ ছাড়তে হলো মলিন মুখে। তাকে ম্লান করে সেন্ট কিটসের ২২ গজে ব্যাট হাতে বাংলাদেশি বোলারদের দারুণ শাসন করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের আমির জাঙ্গু।

বাঁহাতি এই ব্যাটারের অভিষেক ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে। যেখানে বাংলাদেশের দেওয়া ৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩০ রানের মধ্যে যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩ উইকেট নাই, সেখান থেকে ঝোড়ো এক সেঞ্চুরী হাঁকিয়ে দলকে স্মরণীয় এক জয় এনে দিলেন তিনি।

আমির জাঙ্গু ৮৩ বল খেলে অপরাজিত ১০৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। তার সঙ্গে কিসি কার্টির ৯৫ আর গুড়াকেশ মোতির ৪৪ রানের সুবাদে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫ বল হাতে রেখেই ৩২২ রানের লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকরা। জয়টি একটি রেকর্ডের খাতায়ও থেকে গেল— এই মাঠে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সফলভাবে তাড়া করার রেকর্ড। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে এতো রান তাড়া করায় এটি দ্বিতীয়।