২৭ অক্টোবর, ২০২৪

বিএনপি-যুবদলের ৯ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে যুবলীগ

বিএনপি-যুবদলের ৯ নেতাকর্মীকে কুপিয়েছে যুবলীগ

পাওনা ৩ হাজার টাকা চাওয়ায় ৯ ব্যক্তিকে কুপিয়ে যখম করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর সদরের মধ্যমপাড়া মহল্লায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ী রাকিরের সাথে রেষ্টুরেন্ট মালিক আলমগীর হোসেনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। বাকিতে বিক্রি করা চালের টাকা চাওয়া নিয়ে শুক্রবার রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলমগীর জাহাঙ্গিরসহ ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে আহত হয়েছেন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক শাকিল আহমেদ (২২), মিলন প্রামাণিক (৪০), সাব্বির হোসেন (১৯), জনি পারভেজ (২২), শামীম রহমান (৩৮) ও সাইফুল ইসলামসহ আরো তিনজন।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শারমিন সুলতানা সাথী বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় ৯ জন হাসপাতালে আসেন। এদের মধ্যে শাকিলের দুই পা এবং হাতে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল। জনি নামের ওই যুবকের গলার বাম পাশে এবং মাথার বামপাশের খুলি উঠে হাড় বেড়িয়ে যাওয়ায় রাতেই ওই দুইজনসহ ৫জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   

স্থানীয়রা জানান, চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রেষ্টুরেন্টের মালিক আলমগীর হোসেন গুরুদাসপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। চাল ব্যবসায়ি রাকিব হোসেন পৌর সদরের খলিফাপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি’র কর্মী। আলমগীরের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা পেতেন রাকিব। এনিয়ে তাদের মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়। টাকা তুলতে রাকিব হোসেন মধ্যমপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির সরনাপন্ন হন। একপর্যায়ে বুধবার টাকা তুলে দিতে রাকিবের সঙ্গে আলমগীরের কাছে যান বিএনপি নেতা এমদাদ। সেখানে গিয়ে আলমগীরের হাতে শারীরিক লাঞ্ছিতের শিকার হন তারা। বিষয়টি নিয়ে ওই দিনই থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর রাকিব ও বিএনপি নেতা এমদাদের পক্ষে মিছিল বের করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে ক্ষিপ্ত হন আলমগীর। 

আহতদের পক্ষে গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সময় হাসান বলেন, যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন ও বিএনপি নেতা এমদাদ প্রতিবেশি। ঘটনার দিন রাতে একটি জানাযায় অংশ নেওয়ার জন্য মধ্যমপাড়ার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন বিএনপি নেতা এমদাদের স্বজনরা। এসময় যুবলীগ নেতা আলমগীর, জাহাঙ্গীরসহ ১৫ থেকে ২০ জন অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৯জনকে কুপিয়ে যখম করেন। অভিযুক্ত আলমগীর ও তার স্বজনরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, আহতদের পক্ষ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।