বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দশ দফা দাবি আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পূরণ না করলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন
» প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের আশ্বাসে রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষকরা
» শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান
» বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জোর দাবি
শিক্ষক জোটের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালনসহ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ও অনশণ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এসময় জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবি জানান শিক্ষকেরা।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষক নেতাদের ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেস্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গত ২ সেপ্টেম্বর। সেসময় শিক্ষকেরা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতিয়করণসহ শিক্ষা সংস্কারের একটি লিখিত প্রস্তুবও তুলে দেন।
আরো পড়ুন————
» জাল সনদধারী শিক্ষকদের বেতনের টাকা ফেরতের নির্দেশ
» বৈষম্যের আবর্তে ঘেরা এমপিও শিক্ষকদের জীবন
» বদলি নিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য সুখবর
» বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হবে: শিক্ষা উপদেষ্টা
শিক্ষা উপদেষ্টা আন্তরিকভাবে শিক্ষক নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত সন্তোষজনক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতষ্ঠিান জাতীয়করণ করতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে যে ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন শিক্ষক নেতারা
১। শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতা, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর আওতায় বাড়ি ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান এবং গ্রেড বৈষম্য নিরসন।
২। জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো প্রধান, সহ-প্রধান, সহাকারি শিক্ষক এবং প্রভাষকদের পদত্যাগপত্র অবৈধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারিসহ যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩।সহকারি শিকষ্কদের প্রারম্ভিক বেতন গ্রেড সরকারি স্কুলের ন্যায় দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, সহকারী প্রধান শিক্ষকদের বেতন সপ্তম গ্রেডে ও প্রধান শিক্ষকদের বেতন ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যাক্স, অধ্যক্ষদের চাকরি জীবনে দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে।
৪। সর্বজনীন বদলির ব্যবস্থ নিশ্চিত করতে হবে।
৫। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের যুগোপযোগী সংস্কারসহ কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষদের বেতন তৃতীয় গ্রেডে এবং উপাধ্যাক্ষদের বেতন চতুর্থ গ্রেডে উন্নীতকরণ এবং স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ জাতীয়করণ ও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনতে হবে।
৬। কলেজ শিক্ষকদের অনুপাত প্রথা বাতিলসহ জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের স্থলে সহকারী অধ্যাপক পদটি পুনঃপ্রতিস্থাপন, ডিগ্রি ও অনার্স কলেজের তৃতীয় শিক্ষকের এমপিওভুক্তিকরণ, ডিগ্রি ও মাস্টার্স কলেজের অধ্যক্ষদের তৃতীয় গ্রেডে এবং উপাধ্যক্ষদেরকে চতুর্থ গ্রেডে বেতনের ব্যবস্থাকরণ, কলেজের প্রদর্শকরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলে তাদেরকে প্রভাষক পদে পদায়ন এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষদেরকে চতুর্থ গ্রেডে বেতনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে হবে।
৮। কর্মচারীরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করলে তাদেরকে পরবর্তী পদে পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯। মাধ্যমিক ডিজি আলাদাকরণ পূর্বক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে শিক্ষা প্রশাসনে আনুপাতিক হারে পদায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীনের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. জহিরুল ইসলাম, মো. আবুল বাশার, মো. নূরুল আলম খান, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী প্রমুখ।