২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সিনেমা হল ভাংচুর-লুটপাটের অভিযোগ

‘আনন্দ সিনেপ্লেক্সে’ হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে গুরুদাসপুর পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মশিউর রহমান বাবলুর বিরুদ্ধে। মামলা করায় বাদিকে প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন তার অনুগত ব্যক্তিরা। বুধবার দুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে এসব অভিযোগ করেন সাংবাদিক আনিসুর রহমান।

আনন্দ সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারি গণমাধ্যমকর্মী আনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে মশিউর রহমান বাবলুর চাঁচকৈড় বাজারস্ত একটি গুদামঘর ভাড়া নেন তিনি। সেসময় জামানত বাবদ ৪ লাখ টাকা দিয়ে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তিও করা হয়। মোটা অংকের টাকা খরচ করে গুদামঘরটি সিনেমা প্রদর্শনের উপযোগী করে গড়ে তোলেন। সেখানে নিয়োমিত সিনেমা প্রদর্শন করা হচ্ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পট পরিবতর্নের পর চুক্তি ভঙ্গ করে দলীয় দাপট দেখিয়ে ৮ আগষ্ট সন্ধ্যায় মশিউর রহমান বাবলুর অনুগত ৫০ থেকে ৬০ জন ‘আনন্দ সিনেপ্লেক্সে’ হামলা করেন।

দুই ঘন্টার তাণ্ডবে ব্যপক ভাংচুর চালানো হয়। এসময় হামলাকারীরা দামি আসবাব, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টটরসহ সিনেপ্লেক্সের মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেন। এতে তার অন্তত ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঋণের টাকায় গড়া সিনেমা হলের এতো বড় ক্ষতি হওয়ায় তিনি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ-সেনাবাহিনীর কাছে দফায় দফায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তাই তিনি বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মশিউর রহমান বাবলুকে আসামি করা হয়েছে। একারণে মামলা তুলে নিতে অব্যহত হুমকি দিচ্ছেন বাবলুর লোকজন। সিনেমা হলে কর্মরতদের দিচ্ছেন প্রাণনাশের হুমকিও।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মশিউর রহমান বাবলু বলেন, সিনেমা হলে অনৈতিক কর্যক্রম চলায় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ভাংচুর করেছে। এতে তিনি বা তার লোকজন জড়িত নন। তাছাড়া তিনি চুক্তিও ভঙ্গ করেননি। আনিসুর রহমান-ই নানান অজুহাতে সময়মতো ভাড়া পরিশোধ না করে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন। 

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, সিনেমা হলে হামলা-ভাংচুর লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ সাধারণ ডায়েরী করেছেন আনিসুর রহমান। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।