২৪ আগস্ট, ২০২৪

বাগমারার সাবেক এমপি আবুল কালামের সম্পদের পাহাড়

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ছিলেন জেলার তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র। তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে তাহেরপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল থেকে শুরু করে পৌরসভার নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে ডুবে থাকেন তিনি।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে গড়ে তোলেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সেই সঙ্গে তাহেরপুরজুড়ে চালাতে থাকেন ত্রাসের রাজত্ব। 

সর্বশেষ গত সংসদ নির্বাচনে মেয়র থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কালাম। ওই নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েই গোটা বাগমারায় চলে তাঁর ত্রাসের রাজত্ব।

নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি তাহেরপুর পৌরসভায় স্ত্রী সায়লা পারভীনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জয়ী করেন। কালামের ভয়ে অন্য কেউ আর মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেননি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সংসদ নির্বাচনে একের পর এক ত্রাস সৃষ্টির কারণে কয়েক দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কালামকে। নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করে নির্বাচন কমিশন।

এর পর নির্বাচনে জয়ী হয়ে পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানাকে সঙ্গে নিয়ে বাগমারা ও পাশের দুর্গাপুর উপজেলায় অন্যের জমি দখল করে পুকুর কেটে অন্যদের কাছে লিজ দেন। মাত্র সাত মাসেই বাগমারায় অন্তত তিন হাজার বিঘা জমিতে পুকুর খনন হয় তাঁর দাপটে। 

বাগমারার আওয়ামী লীগ নেতা এবং গত মেয়র নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বাবু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ওই নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কালামের অত্যাচারের ভয়ে নির্বাচনে আমি আর দাঁড়াতে পারিনি।

এমপি হওয়ার পর কালাম তাঁর স্ত্রীকে মেয়র নির্বাচিত করতে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সেই ভয়ে অন্য কেউ প্রার্থী হতে সাহস পাননি।’অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমপি কালামের গ্রামের বাড়িতে একটি দোতলা আলিশান বাড়ি রয়েছে।

রাজশাহী শহরের বড় বনগ্রাম এলাকায় রয়েছে ১০ কাঠা জমি, পদ্মা আবাসিক এলাকা ও ঢাকায় তাঁর ফ্ল্যাট রয়েছে। এর বাইরে পুকুর রয়েছে অন্তত এক হাজার বিঘা।

মেয়র থাকা অবস্থায় তাহেরপুর বাজারে মন্দিরের নামে থাকা অন্তত আট কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি দখল করে সেখানে মার্কেট গড়ে তোলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় নিজেই নামে-বেনামে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ করতেন অন্যের লাইসেন্সে।

যুবদল নেতাকে গুলি করার ঘটনায় গত ১৭ আগস্ট সাবেক এমপি কালাম, তাঁর স্ত্রীসহ ২২ জনের নামে মামলা করেছেন আব্দুল মতিন নামের এক ব্যক্তি। মতিন বলেন, ‘প্রায় ১২ বছর ধরে বামগারায় কালাম বাহিনী ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। কালাম অগাধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন এর মাধ্যমে।

মানুষের জমি দখলে নিয়ে জোর করে পুকুর কেটে কালাম অন্তত ৩০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তাঁর সহযোগীরাও পুকুর কেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

পুকুর কেটে এক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা অন্তত ২৫ কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন গত সাত মাসে।’গত ৫ আগস্ট থেকে কালাম সপরিবারে পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।