৯ আগস্ট, ২০২৪

জেলার একমাত্র সিনেপ্লেক্সটিতেও ভাংচুর—লুটপাট

 গুরুদাসপুর (নাটোর). এভাবেই ভাংচুর চলানো হয় আনন্দ সিনেপ্লেক্সে।—ছবি মুক্ত প্রভাত


রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বাড়ি, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভাংচুর, মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের পর এবার হামলা চালানো হয়েছে নাটোর জেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রে। হামলা চালিয়ে ভাংচুর শেষে লুটপাট চালানো হয়েছে গুরুদাসপুরের ‘আন্দ সিনেপ্লেক্সে’। বৃহস্পতিবার রাতে পৌর শহরের চাঁচকৈড় তালুকদার পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে।

সিনেপ্লেক্সটির স্বত্তাধিকারি প্রথম আলোর সাংবাদিক আনিসুর রহমান। সম্প্রতি অত্যাধুনিকভাবে সিনেপ্লেক্সটি সজ্জিত করা হয়েছিল। ভৌগোলিক কারণে এটি চলনবিলের প্রাণ কেন্দ্র গুরুদাসপুরে অবস্থিত হওয়ায় এখানে আসতেন আশপাশের সিরাজগঞ্জ, পাবনাসহ তিন জেলার বিনোদন প্রিয় মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একদল দুর্বৃত্ত পেক্ষাগৃহে ঢুকে ঘন্টাদুয়েক ভাংচুর চালায়। ভেঙ্গে ফেলা হয় গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, চেয়ার। লুট করা হয় ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রজেক্টরসহ অন্যান্য আসবাব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে থেকেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত সন্দেহজনকভাবে ঘুরাঘুরি করছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে দেশীয় অস্ত্র হাতে তালা ভেঙ্গে পেক্ষাগৃহের ভেতরে প্রবেশ করেন ওই দুর্বৃত্তরা।

আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা না থাকা এবং নির্বিচারে ভাংচুর চালানোয় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ জানাতে পারেননি। যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা সিনেপ্লেক্সের দামি জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যান। তবে সিনেপ্লেক্সে কেউ না থাকায় কোনো হতাহত হয়নি।

 গুরুদাসপুর (নাটোর). এভাবেই ভাংচুর চলানো হয় আনন্দ সিনেপ্লেক্সে।—ছবি মুক্ত প্রভাত


আনন্দ সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারি সাংবাদিক আনিসুর রহমান বলেন, তিনি নির্দলীয় মানুষ। প্রায় দুই যুগ ধরে সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার সাথে যুক্ত আছেন। আশপাশের জেলাগুলোতে পেক্ষাগৃহ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি বিনোদনের সংস্কৃতি ফেরাতে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আনন্দ সিনেপ্লেক্সটি’ নির্মাণ করেছিলেন।

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই অঞ্চলের সেলিব্রেটিরাও তার এই পেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখতে আসতেন। অথচ নির্বিচারে তার সিনেপ্লেক্সটি ভাংচুর করা হয়েছে। চলানো হয়েছে লুটপাট। এতে তার প্রায় ৫০লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, তারপক্ষের লোকজন এই ভাংচুরের সাথে জড়িত নয়। তবে যারাই সিনেপ্লেক্সে হামলা করুক না কেন এটা দুঃখজনক।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার বলেন, রাতেই তিনি সিনেপ্লেক্সে হামলার খবর পান। এসময় নম্বর বন্ধ থাকায় তিনি এই এলাকায় দায়িত্বেরত সেনাবাহিনীকে বিষয়টি অবগত করতে পারেননি। পুলিশও হামলা রোধের বিষয়ে ভূমিকা নিতে অপারগতা দেখায়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি নিজেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।