
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে 'গণপিটুনিতে' ১৩ পুলিশ সদস্য এবং গুলিতে দুইজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে থানা।
প্রাথমিকভাবে নিহত পুলিশ সদস্যদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে থানার নিহতদের মধ্যে এসআই, ওসিও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সূত্র জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে সেনা সদস্যদের পাঠানো হচ্ছে। খোঁজ-খবর নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় খামারগ্রাম ডিগ্রি কলেজ ও খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা এনায়েতপুরের বিভিন্ন রাস্তায় মিছিল করে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের হটাতে টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গের চেষ্টা করে।
এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা থানায় ঢুকে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে। পুলিশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে 'গণপিটুনিতে' ১২ পুলিশ সদস্য মারা যায়। রাবার বুলেটের আঘাতে দুই আন্দোলনকারী খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর ও রায়গঞ্জ উপজেলায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষে এ পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ডাকা অসহযোগ আন্দোলনকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, রায়গঞ্জের ধানগড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।
একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পিছু হটে পাশের রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবে ঢুকে পড়েন। এসময় সেখানে হামলা চালানো হয়।
এতে ঘটনাস্থলে তিনজন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়। রায়গঞ্জে নিহতরা হলেন-রায়গঞ্জের ব্রহ্মগাছা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার লিটন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলআমিন, ইউপি মেম্বার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং সাংবাদিক প্রদীপ ভৌমিক।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম তৌহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবদল নেতা রঞ্জু (৪০), যুবদল কর্মী আব্দুল লতিফ ও ছাত্রদল কর্মী সুমন নিহত হয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।