১৩ জুলাই, ২০২৪

৩৫ বছর নামাজ পড়নোর পর ইমামের রাজসিক বিদায়

৩৫ বছর নামাজ পড়নোর পর ইমামের রাজসিক বিদায়

মোটরসাইকেল বহরের পিছনে হরক রকমের ফুলে সাজানো গোড়ার গাড়ি। সেই গাড়িতে চড়িয়ে ৩৫ বছরের পুড়নো ইমাম আব্দুল মোতালেব হোসেনকে বিদায়ি সংবর্ধণা দেওয়া হলো।

হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হলো নগদ অর্থ। শুক্রবার জুম’য়ার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শেষ হয় এই ইমামের ইমামতির অধ্যায়।

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের কাচাড়িপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন আব্দুল মোতালেব। এই মসজিদ থেকে ইমামতি জীবনের ইতি টানলেন তিনি। তবে মসজিদের কোনো ইমামকে এভাবে হৈহুল্লর করে রাজসিক বিদায় জানানো এই অঞ্চলে বিরল ঘটনা। সেই বিরল ঘটনাই উপহার দিলেন কাচাড়িপাড়া জামে মসজিদের মুসল্লিরা। এতে করে ইমামদের এমন মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি অনুকরণীয় হয়ে থাকলো।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ইমাম আব্দুল মোতালেব গুরুদাসপুর উপজেলার ধারবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের বাসিন্দা। তার বয়স এখন ৭২ বছর। তবুও সুরা কেরাতেরু ক্ষেত্রে এই ইমামের জড়তা আসেনি। তার আচার ব্যবহার এবং ধর্মীয় গাম্ভীর্য এই মসজিদের মুসল্লিদের মুগ্ধ করেছে। তাই তিনি টানা ৩৫ বছর ধরে একই মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ইমামকে বিদায়ী সংবর্ধণা দিতে এক হাজার মানুষের ভুড়িভোজের আয়োজন করা হয়। মসজিদ প্রাঙ্গণে। ইমামের বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকাল থেকেই জুম’য়ার নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসতে থাকেন মুসল্লিরা। জুম’য়ার নামাজ শেষে যখন ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে তোলা হয়, তখন আবেগে কাঁদছিল ইমাম আব্দুল মোতালেব হোসেন। তার আগে ফুলের তোরা দেওয়া হয়।

এরপর উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে ক্ষমা চেয়ে করমর্দন করেন তিনি। একপর্যায়ে কয়েকশ মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রার মাঝখানে গোড়ার গাড়িতে তুলে পৌর শহরের অদূরের চলনালী গ্রামের বাড়িতে ইমাম আব্দুল মোতালেবকে রেখে আসা হয়।  

তার এই বিদায়ী মুহুর্তে গুরুদাসপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শামসুল হক শেখ, আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন, শাহজাহান আলী শেখ, আমিরুল ইসলাম সাগর, ইউসুফ আলী, আব্দুল আলীম ফকির, আব্দুল্লাহ শেখ, মতিউর রহমান শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইমাম মাওলানা মুফতি আব্দুল মোতালেব হোসেন আবেগি কণ্ঠে বলেন, ১৯৮৯ সালে এই মসজিদের খতিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। এরপর কেটে গেছে ৩৫টি বছর। তিন যুগের এই দীর্ঘ সময়ে তিনি মুসল্লি এবং স্থানীয় লোকজনের ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন। বিদায়ের সময়ও ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। প্রতিটি মসজিদের ইমামের বিদায় বেলায় এমন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ আলমগীর শেখ জানান, ইমামের এমন রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা এই অঞ্চলে প্রথম। ৩৫ বছর ধরে ইমাম আব্দুল মোতালেব তাদের মাঝে দ্বীনের জ্ঞান বিতরণ করে এসেছেন। ইমামের বিদায়ী মুহুর্ত স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করেছেন তারা।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, প্রতিটি ইমামই সমাজের নেতা। সেই ইমামদের প্রাপ্য সম্মান টুকু ঠিকমতো দিতে পারে না এই সমাজের মানুষেরাই। ইমামদের মর্যাদার কথা বিবেচনায় এনে এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাদের ইমামকে সম্মান সূচক বিদায় দিতে পেরে তারা আন্দিত।