নিজেদের জমি না থাকায় আশ্রয়স্থল হিসেবে সরকারিভাবে টিনের ব্যারাক হাইজ প্রকল্পের আওতায় জমিসহ টিনের ঘর পেয়েছিলেন অসহায় ও ভূমিহিনরা। কিন্তু ব্যক্তিগত তথ্য গোপন সেই ঘর নিয়েছিলেন গুরুদাসপুরের চাপিলার চকদিঘলী গ্রামের আব্দুর রহমান, রোজিনাসহ প্রায় বিশটি পরিবার।
জানাযায়- উপজেলার চাপিলার চকদিঘলীর গুচ্ছগ্রামে টিনের ব্যারাক হাউজ প্রকল্পের আওতায় ৯৮ টি ঘর নির্মান করা হয়েছিলো। ভূমিহীনদের অনেকেই ঘর পাওয়ার পর থেকে সেই ঘর ছেড়ে চলে যান অন্যত্র। অনেকেই আবার মসজিদে টাকা দেওয়ার শর্তে ঘর ছেড়ে দিয়েছে অন্য ভুমিহীনদের।
সচ্ছলতা ফেরার পর মফিজ, আব্দুর রহমান, রোজিনাসহ প্রায় ১০ জনের নামের বরাদ্দকৃত ঘর বাতিল হয়। বাতিল হওয়া ঘরগুলো অন্য অসহায় ভূমিহীনদের দেওয়া হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ওই ঘরগুলোতে তারা বসবাস করে আসছে।
বর্তমানে ব্যারাক হাউজের টিনসেড ঘর ভেঙ্গে আশ্রয়ন প্রকল্পের অধীনে সেই ঘরগুলো পাকাকরণের বরাদ্ধ দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার কারণে র্দীর্ঘ ১২-১৪ বছর ধরে ফেলে যাওয়া ওই ঘরগুলোর মালিক দাবি করছেন মফিজ, আব্দুর রহমান, রোজিনারা। যার কারণে চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহাবুর রহমানের নামে তারা মামলাও করেছেন।
তবে সরেজমিনে গিয়ে মামলাকারীদের সাথে কথা বললে তাদের অনেকেই মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তারা বলছেন মফিজ, আব্দুর রহমান ও রোজিনারা তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মামলার কাগজে স্বাক্ষর করিয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান আমাদের কাছে কোনো টাকা পয়সার দাবি করেননি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাপিলার চকদিঘলী গ্রামে পাকা বাড়িতে বসবাস করেন আব্দুর রহমান। তার দুই ছেলে থাকেন বিদেশ। প্রায় ১২ বছর হলো আব্দুর রহমান ব্যারাক হাউজে বসবাস করেন না।
এবিষয়ে তার সাথে কথা বলতে চাইলে তার স্ত্রী বলেন আমাদের নামের ঘর আমরা ফেরত চাই। একই এলাকার মো. মফিজ উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার ৯ কাঠা জমির উপরে দুটি টিনের ঘর রয়েছে।
একটিতে থাকে মফিজ ও আরেকটিতে থাকে তার ছেলে। বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুরে রোজিনা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তারও পাকা ঘর রয়েছে।
তার স্বামীর নামে একটি মিনি ট্রাক রয়েছে এবং আহম্মেদপুর বাজারে রয়েছে একটি চায়ের দোকান। এভাবে কাজলী বেগম, সুফিয়া বেগম, সাইফুল ইসলামসহ প্রায় বিশটি পরিবারে একই চিত্র দেখা যায়। কারও রয়েছে টিনের ঘর আবার কারোও রয়েছে পাকা বাড়ি।
চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, ঘরগুলো নির্মানাধীন। ঘরে নতুন কাউকে তুলে দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। নির্মাণ কাজ শেষ হলে সরকারী বিধিমোতাবেক প্রকৃত ভুমিহীন-গৃহহীনরা ঘর পাবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমার বিরুদ্ধে মামলাগুলো মিথ্যা-বানোয়াট, রাজনৈতিক ভাবে হেয় করতে করানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওই ব্যক্তিদের আমি চিনিই না। আমি চেয়ারম্যান হবার পর এবং আগে আমি কখনো তাদের সেখানে দেখি নাই। মামলাকারীদের বেশির ভাগই ওই মৌজার ভোটার না। মামলাকারীরা ওইখানে বসবাস করলে অবশ্যই ওই মৌজার ভোটার হতেন এবং ইউনিয়ন পরিষদে তাদের নামে হোল্ডিং থাকতো।
প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন- সরকারি নিদের্শনা বাস্তবায়নে সেখানকার জরাজীর্ণ ব্যারাক হাউস ভেঙ্গে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন অবকাঠোমো তৈরি করা হচ্ছে। পূর্বে সেখানে কারা বসবাস করত সেই বিষয়টি দেখবেন উধ্বর্তন কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা আক্তার বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী প্রকৃত গৃহহীন-ভূমিহীনরাই ওই ঘরের মালিক। সচ্ছল ও বিত্তবানদের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।