১ জুলাই, ২০২৪

নাটোরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে  ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

নাটোরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে  ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু

নাটোরের বড়াইগ্রামে সরকারি খাস পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আশিক সরকার (২৬) মারা গেছেন। রোববার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় বড়াইগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত শনিবারের উভয়পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ নেতা আশিক আহত হয়েছিলেন। বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল আযম খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত আশিক সরকার উপজেলার চান্দাই গ্রামের মীরন সরকারের ছেলে। 

বড়াইগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শাহাবুল ইসলাম বলেন, আশিক চান্দাই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মূলত বড়াইগ্রামের চান্দাই গ্রামের ২ দশমিক ৫১ একর জলকরের একটি খাস পুকুর নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত।

একই উপজেলার পারকোল দক্ষিণপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে পুকুরটি ইজারা নেওয়া হয়। ওই সংগঠনের সভাপতি মসলেম উদ্দিন প্রতিবেশী সাহেব আলীসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে পুকুরটিতে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন।

রাজনৈতিক সূত্র বলছে, ইজারা নেওয়া সমবায় সমিতির সভাপতি মসলেম উদ্দিন ও এর সাথে জড়িতরা প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের সমর্থক। তারাই দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন। সম্প্রতি বর্তমান সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর অনুসারী মিরন সরকার, হাফিজুর রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ওই পুকুরের মাছ জোরপূর্বক ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠে।

এ নিয়ে গত ১৪ জুন শনিবার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের হাফিজুর রহমান ও আশিক সরকার আহত হন। সেদিনই আহত দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ছাত্রলীগ নেতা আশিকের মৃত্যু হয়। হাফিজুরের অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

ওই সংর্ষের পর ছাত্রলীগ নেতা আশিকের বাবা মিরন বাদি হয়ে ১৬ জুন বড়াইগ্রাম থানায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা করেন। মামলাটিতে প্রতিপক্ষ সাহেব আলী (৫৪), ইয়াহিয়া (৪৫), জাহিদুল প্রামাণিক (৪৫), নায়েব প্রামাণিক (৫৬), শাকিব হোসেন (২২), সুইট হোসেন (২৩), কামরুল ইসলাম (৪০), আবদুস সোবাহান (৫৯), আবদুস সোহরাব (৬০), দুলাল হোসেনসহ (৪২) অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এই মামলায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি এখানো কারাগারে আছেন।

বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাফিউল আযম জানান, নিহত আশিকের বাবার দায়ের করা হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন তারা।
এদিকে ছাত্রলীগ নেতা আশিকের পিতা মিরন সরকার বলেন, রাজনৈতিক কারণে তার সন্তানকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।