২২ জুন, ২০২৪

নাটোরে বাস মালিকের ভাতিজাকে গুলি; আরেকজনকে কুপিয়ে আহত

নাটোরে বাস মালিকের ভাতিজাকে গুলি; আরেকজনকে কুপিয়ে আহত

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জরে নাটোরের আরপি রোকেয়া পরিবহন মালিকের ভাতিজা সুবেলের (২৭) পায়ে গুলি করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বাস মালিক সমিতির কর্মী নীরেন্দ্র নাথকে (৪৫)। শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে নাটোর শহরের বড়হরিশপুর বাস টার্মিনালে ওই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বাস কাউন্টারগুলোতে তালা দিয়ে রাখা হয়। এতে প্রায় প্রায় চার ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। আধিপত্যের এই ঘটনায় নাটোর বাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ বাবুল আখতারকে দায়ী করছেন সমিতির অন্য নেতারা। 

এতে আবুল হোসেন, মো. সুরুজ মিয়া, কিরণ হোসেন, মমিনুল ইসলাম হিমেল, মো. খোকাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুব্রত ঘোষ বলেন, গুলিবিদ্ধ একনজসহ কুপিয়ে যখম হওয়া এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এহিয়া চৌধুরী জানান, নাটোর বাস মালিক সমিতির ৩৫০ জন সদস্যের সর্বোচ্চ ১৫টি করে বাস যাত্রী পরিবহণের জন্য সড়কে দেওয়ার কথা। কিন্তু সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মালিক মজিবর রহমান নিয়ম মানেননি।

সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মালিকাধীন রাজকীয় পরিবহনের ২০টি বাস সড়কে ছাড়ার কারণে বাস মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। মূলত শুক্রবার ঢাকাগামী রাজকীয় পরিবহণের সিরিয়াল দেওয়া নিয়ে অন্য বাস মালিকদের বাকবিত-া হয়। ওই বিষয়কে কেন্দ্র করে নাবিলা পরিবহনের মালিক বাবুল আখতার ও রাজকীয় পরিবহণের ম্যানেজার খোকা ১২ থেকে ১২জন লোক নিয়ে শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে শহরের বড় হরিশপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হামলা চালান। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। কুপিয়ে আহত করা হয় সমিতির কর্মী নীরেন্দ্র নাথকে। বাধা দিতে গেলে আরপি রোকেয়া পরিবহনের মালিকের ভাতিজা সুবেলের পায়ে গুলি করা হয়।

পরিস্থিতি উতপ্ত হলে রাত ৩টার দিকে নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করেন। বাসিরুর রহমান খান এহিয়া চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর থেকে বাসমালিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার প্রতিবাদ সরূপ তারা সব কাউন্টার ও বাস (জেলা মালিক সমিতির) চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি দেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজকীয় পরিবহণের মালিক মজিবর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেলে কাউন্টারে তার বাস আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনকে জানানোর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি মারামারির বিষয়ে কিছু জানেন না। হামলার সাথে তার কোনো লোকজন জড়িত নন।

নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পরই বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যহত রেখেছে।