শোবার ঘরের দরজা ভেঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের কর্মী শহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে যখম করা হয়েছে। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে ওই প্রার্থীর আরো সাতজন কর্মীর বাড়িঘর। গতকাল রোববার ভোর তিনটার দিকে নাটোরের ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় আহত শহিদুল ইসলামের পিতা বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আনসার আলী (৩২) বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি গ্রামের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে।
প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শরিফুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শরিফুল ইসলাম (আনারস) নাটোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের ভাই। মঙ্গলবার সকাল থেকে এখানে ভোট গ্রহণ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের (মোটরসাইকেল) কর্মী শহিদুল ইসলাম (৫০) নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রোববার দিবাগত মধ্যরাতে বাগাতিপাড়ার সাতশৈল গ্রামের বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত তিনটার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা করে। এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা শহিদুল ইসলামের শোবার ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে যখম করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাজনৈতিক সূত্র বলছে, শহিদুল ইসলামের ওপর হামলার কিছুক্ষণ আগে দুর্বৃত্তরা বাগাতিপাড়া উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের জমসেদ আলী, নাজমুল হোসেন, পাঁচুড়িয়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ও ইদ্রিস আলীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। বাড়ির লোকজনকে নিষেধ করা হয় ভোটকেন্দ্রে যেতেও।
প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শরিফুল ইসলাম উপজেলা নির্বাচনে নিজের পরাজয় বুঝতে পেরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। একের পর এক হামলা চালাচ্ছেন তার নেতাকর্মীদের ওপর। এমনকি তাকেও সোনাপুর বাজারে প্রকাশ্যে মারপিট করে আহত করেছেন। সবশেষ তার কর্মী শহিদুল ইসলামকে কুপিয়ে যখম করেছে শফিকুলের লোকজন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁর কোনো কর্মী কোনো হামলার সাথে জড়িত নন। মূলত ভোটে পরাজিত হওয়ার গ্লানি ঢাকতেই প্রতিপক্ষ এসব মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।
বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নান্নু খান জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রধান সমন্বয়কারীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাছুদুর রহমান বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রাথীর কর্মীর ওপর হামলার সাথে অপর প্রার্থীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।