
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার ৬৭ দিন পর অবশেষে বাবা মায়ের কোলে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন নাজমুল হক।
এর মধ্য দিয়ে নাবিকদের স্বজন-পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো।
বুধবার (১৫) ভোরে উপজেলার চর নূরনগর গ্রামের বাড়ি ফেরার পর মা-বাবা, পরিবার, আত্নীয় স্বজন এবং গ্রামবাসী বরণ করে নেন নাজমুলকে। তার ফেরার মধ্য দিয়ে স্বজন-পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।
নাজমুল হক উপজেলার চর নূরনগর গ্রামের আবু সামা ও নার্গিস খাতুন দম্পত্তির ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীন সুলতানা বলেন, কামারখন্দে সন্তান নাজমুল নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে মায়ের কোলে ফিরছে। এতে সবাই আনন্দিত। নাজমুলকে দেখতে তাদের বাড়িতে যাবো।
বাবা-মায়ের কোলে ফেরা নিয়ে আনন্দে নাজমুল হক বলেন, এই আনন্দের প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই। যখন জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ছিলাম বাড়িতে কথা বলার সুযোগ শেষ হয়ে গেল তখন মনে মনে বলতাম আর বুঝি বাবা-মায়ের মুখ দেখতে পাবো না। নামাজ পড়তাম আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম হে আল্লাহ তুমি আমাদের সবাইকে বাবা-মায়ের বুকে ফিরিয়ে দাও।
মহান আল্লাহ আমাদের কথা শুনেছেন। সবাই বাংলাদেশে এসে বাবা মা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পৌঁছে গেছি। বাড়িতে থাকবো বেশকিছু দিন হয়তো কোরবানির ঈদের পর জাহাজে উঠবো।
ছেলে ফিরে আসার খুশিতে মা নার্গিস খাতুন বলেন, আল্লাহ তায়ালা কাছে শুকরিয়া জানাই আমার বুকের মানিক আমার কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে । আমার আর কোনো কিছু চাওয়ার না। আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে মে সকল মানুষ সাহায্য করেছেন সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হয় এমভি আবদুল্লাহ। প্রায় ১ মাস পর এমভি আবদুল্লাহসহ গত ১৪ এপ্রিল ভোরে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হন ২৩ নাবিক। এরপর জাহাজটি পৌঁছে দুবাইয়ের আল হামরিয়া বন্দরে।
সেখান থেকে মিনা সাকার নামের আরেকটি বন্দরে চুনাপাথর ভর্তি করার পর চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সব মিলিয়ে ৬৫ দিন পর মুক্ত নাবিকরা বাংলাদেশে ফিরেছেন।