১৫ মে, ২০২৪

গুরুদাসপুরে পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষ থেকে টেনে বের করে শিক্ষার্থীকে মারধর

পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতর থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে নাহিদ হাসান (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে যখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে সহপাঠি ও স্বজনদের বিরুদ্ধে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে গুরুদাসপুরের মশিন্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ওই মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

এঘটনায় একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলতাব হোসেন ও তার স্বজন আলামিনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের  অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত ছাত্র। আহত ছাত্রের বাড়ি উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের বামনকোলা গ্রামে। অভিযুক্তরা দড়িকাছিকাটা গ্রামের বাসিন্দা।

আহত শিক্ষার্থী নাহিদ হাসানকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শারমিন জাহান লুনা বলেন, আহত নাহিদ হাসানের দুই হাতে, পায়ে এবং বাম কানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

আহত শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান জানায়, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সহপাঠি আলতাব হোসেনের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে মারধরের হুমকি দেয় আলতাব। বুধবার দ্বিতীয় ঘন্টায় কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পাঠদানের সময় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক টেনে হেঁচড়ে বেড় করে নিয়ে যায় আলতাবসহ তিন থেকে চারজন। পরে মাঠে নিয়ে কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাথারিভাবে পিটিয়ে যখম করে।

বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি রবিউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের সময় তিনি বাধা দিতে গিয়ে তিনি নিজেও ধাক্কাধাক্কির শিকার হন।

এদিকে ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম সালিস ডেকে ১ হাজার টাকায় আপোষ রফা করেন।

প্রধান শিক্ষক মাহবুব আলম বলেন, বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বহিরাগত দুই যুবক এসে তার কাছ থেকে দশম শ্রেণির শ্রেণিকক্ষ দেখিয়ে চান। তিনি সরল মনে দেখিয়ে দেন। এর কিছু পরে তিনি জানতে পারেন তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদ হাসানকে মারধর করা হয়েছে। দুপুর নাগাদ দুই পক্ষকে ডেকে নিয়ে কিছু খরচপত্রের মাধ্যমে তিনি আপসও করে দিয়েছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনিও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। পরে দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধান করে দিয়েছেন।

গুরুদাসপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তারা।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।