১ মে, ২০২৪

বদলগাছীতে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ উপল‌ক্ষে নওগাঁর বদলগাছী‌তেমাধ‌্যমিক ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সঙ্গীত প্রতি‌যো‌গিতায়  বিচারক মন্ডলীর বিরু‌দ্ধে পক্ষপা‌ত ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। দুটি ক‍্যটাগরিতে প্রথম হওয়ায় সিজান সিদ্দিকীকে তৃতীয় ক‍্যাটাগরিতে প্রথম করলেন না বিচারক মন্ডলী।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপল‌ক্ষে গত সোমবার ২৯ এ‌প্রিল সোমবার সকাল ১১ টা থে‌কে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বদলগাছী ম‌হিলা ডিগ্রী ক‌লে‌জের তৃতীয় তলার এক‌টি হল রু‌মে  সঙ্গীত , নৃত‌্য,  ক‌বিতা আবৃ‌তি ,হামদ, নাত ও রচনা প্রতি‌যো‌গিতা অনু‌ষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রতি‌যো‌গিতায় সঙ্গীত ও নৃত‌্য শাখায় বিচারক মন্ডলীর দা‌য়িত্ব পালন ক‌রেন বদলগাছী বঙ্গবন্ধু সরকারী ক‌লে‌জের বাংলা বিভা‌গের বিভাগীয় প্রধান ড, ফালগু‌নি চক্রবর্তী ও গোবরচাপাহাট ডিগ্রী ক‌লে‌জের প্রভাষক অ‌সিম কুমার নন্দী।

উপ‌জেলা মাধ‌্যমিক শিক্ষা অ‌ফিস সু‌ত্রে জানা যায়, সঙ্গীত বিষ‌য়ে ৭টি ক‌্যাটাগ‌রি‌ দেশ্বাত্ববোধক, নজরুল সঙ্গীত, র‌বিন্দ্র স‌ঙ্গীত, লোক সঙ্গীত , উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও জা‌রি গান ছিল। এর ম‌ধ্যে জা‌রিগা‌নে কোন শিক্ষা‌র্থি অংশ গ্রহন ক‌রে‌নি।অন‌্য সব ক‌্যাটাগ‌রি‌তে ক,খ,গ ও ঘ শাখায়   শিক্ষা‌র্থী অংশ গ্রহন ক‌রে ।

সেখা‌নে খ শাখায় লোক সঙ্গীত বিভা‌গে অংশ গ্রহন ক‌রেন  ৪ জন প্রতি‌যো‌গী শিক্ষার্থী। তার ম‌ধ্যে বদলগাছী সরকারী ম‌ডেল উচ্চ বিদ‌্যালয় থে‌কে  ৩ টি ক‌্যাটাগ‌রি‌তে  অংশ গ্রহন ক‌রেন সিজান সি‌দ্দিকী।

সিজান সি‌দ্দিকী খ শাখা হ‌তে দেশাত্ব‌বোদক ও র‌বিন্দ্র সঙ্গী‌ত ২ কাট‌্যাগ‌রি‌তে প্রথম স্থান অর্জন ক‌রে। আর লোক সঙ্গী‌তে অপর ৩ জন প্রতি‌যো‌গী শিক্ষার্থী‌দের চাই‌তে নিজ হা‌তে হার‌মো‌নিয়াম বা‌জি‌য়ে অত‌্যন্ত সুন্দর গান প‌রি‌বেশন কর‌লেও আ‌গে দুই ক‌্যাটাগ‌রি‌তে প্রথম স্থান অর্জন করায় লোক সঙ্গী‌তে তা‌র কোন স্থান নির্বাচন ক‌রেন‌নি দুই বিচারক। 

তার কারন হি‌সে‌বে জানা যায়, সিজান সি‌দ্দিকী  ২ ক‌্যাটাগ‌রি‌তে প্রথম স্থান অর্জন ক‌রে‌ছে, তা‌কে ৩ ক‌্যাটাগ‌রি‌তে লোক সঙ্গী‌তে প্রথম স্থান ই‌চ্ছে ক‌রে পক্ষ‌্যপাত মুলক দুই বিচারক মন্ডলী  ও মাধ‌্যমিক শিক্ষা অ‌ফি‌সের একা‌ডে‌মিক কর্মকর্তা অ‌নিল কুন্ড আ‌লোচনা ক‌রে সিজান সি‌দ্দিকী‌কে প্রথম স্থান না দি‌য়ে লিখন না‌মে এক প্রতি‌যো‌গীকে প্রথম ক‌রে‌ছেন। অথচ লিখন হার‌মো‌নিয়াম বা‌জি‌য়ে গান ক‌রেন‌নি ।

সঙ্গীত নী‌তিমালা অনুযায়ী প্রতি‌যো‌গীকে হার‌মো‌নিয়াম নি‌জে বা‌জি‌য়ে গান না কর‌লে তার প্রাপ্ত মার্কস থে‌কে  ৫ মার্কস কাটা পর‌বে। তারপর ও লিখন‌কে প্রথম করায়  সিজা‌নের বাবা আবু সাইদ সহ উ‌পস্থিত ক‌য়েক জন শিক্ষক বিচারক মন্ডলীর এমন পক্ষ‌্যপাত মুলক বিচা‌রের অ‌ভি‌যোগ তু‌লেছেন এবং তাৎক্ষ‌নিক ভা‌বে এর সু‌বিচার দাবী ক‌রে মৌ‌খিক অ‌ভি‌যোগ ও ক‌রে‌ন  উপ‌জেলা মাধ‌্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শ‌ফিউল আলম ও একা‌ডে‌মিক কর্মকর্তা অ‌নিল কুন্ডুর কা‌ছে।

উপস্থিত বিচারকমন্ডলী তারা দুজ‌নেই জনান, যে‌হেতু দুই বিচারক মন্ডলী দা‌য়িত্ব পালন ক‌রে‌ছেন তা‌দের এখন করার কিছুই নেই। দুই বিচারক মন্ডলীর ম‌ধ্যে ড, ফাল্গুনী চক্রবর্তীর বিচা‌রকি ক্ষমতা বা বিচার‌কের দা‌য়ি‌ত্বে বসা‌নো মো‌টেই ঠিক হয়‌নি।

কারণ ড, ফাল্গুনী অধ‌্যাপক হ‌লেও সঙ্গীত বিষ‌য়ে তার কোন একা‌ডে‌মিক ও বাস্তব কোন অ‌ভিজ্ঞতা নেই। কারন তি‌নি কোন গা‌নের শি‌ল্পী বা শিক্ষক ও নয়। এমন ব‌্যা‌ক্তি‌কে বিচারক মন্ডলী‌তে রাখা ঠিক হয়‌নি ব‌লে উপ‌স্থিত একা‌ধিক শিক্ষক সাংবা‌দিক ও এক ক‌লে‌জের অধ‌্যক্ষ মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শ‌র্তে সেখা‌নে উপ‌স্থিত এক ডিগ্রী ক‌লে‌জের অধ‌্যক্ষ জানান, অধ‌্যাপক ড, ফালগুনী ম‌্যাডাম ই‌তি পূ‌র্বে ও এক সঙ্গীত প্রতি‌যোগিতায় বিচারক হি‌সে‌বে পক্ষ‌্যপাত মুলক আচরণ ক‌রে‌ছেন।

তি‌নি আর ও জানান,ড, ফালগুনীর এমন পক্ষ‌্যপাত মুলক সঙ্গীত  প্রতি‌যোগীতায় বিচার করার কার‌নে  শিক্ষার্থী‌দের সঙ্গী‌তে মন‌নি‌বেশ ক‌মে যা‌বে। এ বিষ‌য়ে উপ‌জেলা শিক্ষা অ‌ফি‌সের একা‌ডে‌মিক কর্মকর্তা অ‌নিল কুন্ড জানান, অনুষ্ঠান‌টি সা‌র্বিক প‌রিচালনার দা‌য়ি‌ত্বে আ‌মি ছিলাম।

কিন্তু বিচারক মন্ডলীরা আমার সা‌থে কোন পরামর্শ না ক‌রেই রেজল্ট আমার হাতে তু‌লে দি‌য়ে চ‌লে গে‌ছেন। এখন তারা ন‌্যায় বিচার ক‌রে‌ছে না অ‌বিচার ক‌রে‌ছে আ‌মি কিছু বল‌তে পার‌বো না।

এ ব‍্যপারে উপ‌জেলা মাধ‌্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শ‌ফিউল আলম এর সা‌থে যোগা‌যোগ করা হ‌লে তি‌নি জানান, বিচার‌কের কাজ বিচারক ক‌রে‌ছে। এ বিষ‌য়ে আ‌মি কোন মন্তব‌্য কর‌তে চাই না।

উক্ত অনুষ্ঠানের বিচারক মন্ডলীর সদস‌্য অ‌সিম কুমার নন্দীর সা‌থে‌ কথা হ‌লে সে জানায় , সিজান লো‌ক সঙ্গী‌তে ন‌্যায় বিচার পায়‌নি এমন প্রশ্নে আমি বিব্রত বোধ কর‌ছি।

অপর বিচারক ড,ফাল্গুনী চক্রবর্তীর সা‌থে কথা হ‌লে সে জানায়, প্রকৃত সঙ্গীত নীতামালায় যা র‌য়ে‌ছে সেটা ফ‌লো না ক‌রে এখা‌নে বিচ‌ারকের দা‌য়িত্ব পালন করা হ‌য়ে‌ছে। স্থানীয় শিক্ষা ক‌মি‌টি যে ভা‌বে পরামর্শ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে সে ভা‌বেই বিচার‌কের দা‌য়িত্ব পালন করা হ‌য়ে‌ছে।  ত‌বে এখা‌নে  বিচার‌কের প‌্যা‌নে‌লে ৩ জ‌নের নাম ছিল।

তার ম‌ধ্যে উপ‌জেলা শিক্ষা অ‌ফি‌সের একা‌ডে‌মিক কর্মকর্তা অ‌নিল কুমার কুন্ডু উপ‌স্থিত থাক‌লেও  তি‌নি দা‌য়িত্ব পালন ক‌রেন‌নি। ২ জন মি‌লে কোন বিচার করা সম্ভব হয় না। ৩ জন হ‌লে বিচার কার্য স‌ঠিক হয়। ত‌বে ভু‌লের উ‌দ্ধে কেহ নেই।

প্রতিযো‌গী শিক্ষার্থী‌ অ‌ভিভাব‌কেরা বিষয় টি মে‌নে না নি‌য়ে  খ শাখা লোক সঙ্গী‌তের উপর বি‌শেষ ব‌্যবস্থায় পুনরায় প্রথম স্থান যে প্রতি‌যো‌গীকে ঘোষনা করা হ‌য়ে‌ছে এবং অপর প্রতি‌যো‌গি সিজান সি‌দ্দিকীর ম‌ধ্যে পুনুরায় প্রতি‌যো‌গিতার আ‌য়োজন করার মাধ‌্যমে উপ‌জেলা ‌শিক্ষা ক‌মি‌টির সভাপ‌তি উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ মাধ‌্যমিকের উর্ধতন কর্তৃপ‌ক্ষের হস্ত‌ক্ষেপ কামনা ক‌রে‌ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (চ.দা) মো কামরুল হাসান সোহাগ বলেন, গতকাল দুপুর পর্যন্ত বদলগাছীতেই ছিলাম। কোন অভিযোগ পাই নি। আমি আসার পর হয়তো অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ হাতে পাই। প্রতিযোগিতায় যদি বিচারক মন্ডলীর ক্রটি থাকে। তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।