২৩ এপ্রিল, ২০২৪

পোষাক শ্রমিক রেবেকা বেগম দু-পা হারিয়ে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিক শাবানার

পোষাক শ্রমিক রেবেকা বেগম দু-পা হারিয়ে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন খোঁজ মেলেনি অপর শ্রমিক শাবানার

আজ ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১১ বছরপূর্তি। সেদিনের ভয়াবহ ভবন ধসের দুর্ঘটায় দুই পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণকারী গার্মেন্টসশ্রমিক রেবেকা বেগম সেই দুর্বিসহ জীবনের স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন।

কাটা দুই পায়ের হাড্ডি বড় হয়ে যাওয়ায় দ্রুত অপারেশনের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা প্রয়োজন। কিন্তু সেটি করতে না পারায় মৃত্যুযন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে তার। পা না থাকলেও দুই হাতের ভর দিয়েই চলছে তার জীবন সংসার। 

এরমধ্যে রেবেকা বেগম দুই সন্তানের মা হয়েছেন। প্রথম সন্তান সিদ্রাতুন মুনতাহা তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ছেলে মাদানি আন্নুর প্লে শ্রেণিতে স্থানীয় এক কিন্ডার গার্টেন স্কুলে লেখাপড়া করছে। তবে স্ত্রীকে দেখাশুনা করার জন্য স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান বাইরে কাজ করতে পারেন না। 

 

অশ্রুসজল কন্ঠে কথাগুলো বলেন, কোনো ঈদ পরবে কোথাও ঘুরতে পারেন না স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে। যা ঘোরাফেরা তার সবটাই হাতের ওপর ভর করে বাড়ীর আঙ্গীনাতেই সীমাবদ্ধ। স্বামী, সন্তানদের প্রয়োজনে তাদের কাছেও যেতে পারেন না। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে দুই পা হারানো গার্মেন্টসশ্রমিক রেবেকা বেগম। তিনি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাই চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের নির্মাণশ্রমিক মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। 

রেবেকা বেগম বলেন, ঘটনার আগের দিন  অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল রানা প্লাজায় ফাটল দেখে শ্রমিকেরা কর্তৃপক্ষকে জানালে কর্তৃপক্ষ বিকেল চারটায় ছুটি দিয়ে দেয়। পরদিন সকাল আটটায় যথারীতি কাজে এসে বিল্ডিংয়ের ফাটলের কারণে কাজে যোগ দিতে চাননি শ্রমিকরা।

কিন্তুকর্তৃপক্ষ হুমকি ও চাকরিচ্যুতির ভয়ে অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে রেবেকা, রেবেকার মা চাঁন বানু, দাদি কোহিনুর ও ফুফু রাবেয়াসহ তার পরিবারের সাতজন কাজে যোগ দেন।  সকাল নয়টায় দিকে বিকট শব্দে ভবনটি ভেঙ্গে পড়ে। তিন দিন আটক পড়ে ছিলেন ওই বিল্ডিংয়ের দেয়ালের নিচে। পরে উদ্ধার কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর নিজেকে হাসপাতালে তার দু পা কেটে ফেরতে হয়েছে। দীর্ঘ এক বছর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কর্মহীন হয়ে গ্রামে ফিরে আসেন রেবেকা বেগম।

তবে ওই দুর্ঘটনায় তার মা চাঁন বানু ও দাদি কোহিনুরসহ পরিবারের পাঁচজনকে হারিয়েছেন। তাদের মরদেহ আজও পাওয়া যায়নি। সরকারি নিদের্শনা ছিল যেসব শ্রমিক দুর্ঘটনায় একটি অঙ্গ হারাবেন তাকে ১৫ লাখ এবং যে একটি অঙ্গ হারাবেন তাকে ১২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওযা হবে।

কিন্তু তথ্যগত ভুলের জন্য রেবেকা বেগম দুই পা হারিয়েও ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন এক পা হারানোর জন্য ১০ লাখ টাকা। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ২০২১ সালে ৫ শতাংশ জমিতে বারাইহাট এলাকায় একটি পাকা টিনশেডের বাড়ী করে নির্মাণ করে দিয়েছে।

কিন্তু সেখানেও বসবাস করতে পারেন না তিনি। কারণ, ফাঁকা জায়গা আশপাশে তেমন বাড়িঘর নেই এবং স্বামীর অবর্তমানে দেখাশোনা করার মতো কেউ না থাকায় আগের মাটির বাড়ীতেই থাকেন বলে জানান রেবেকা। 

রেবেকার স্বামী নির্মাণ শ্রমিক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার এক বছর আগে দুজনে দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনা তাদের সংসার তছনছ করে দিয়েছে। 
এদিকে একই ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন উপজেলার ১নং কাজিহাল ইউনয়নের কাজিহাল ডাঙ্গা গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী পোশাকশ্রমিক গুলশান আক্তার শাবানা

। তার স্বামী আতাউর রহমান বলেন, সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৩ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। কিন্তু আজও শাবানার কোনো খোঁজ কিংবা মনদেহ কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি।