
কাজ না করেই যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা উত্তোলনের চেষ্টার ঘটনায় নিজের স্বাক্ষর জাল দাবি করা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুজাহিদুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে। রোববার দুপুর ১২ টার দিকে তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের সিভিল সার্জন।
সিভিল সার্জ মশিউর রহমান বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে ১৮ মার্চ সকালে হিসাব রক্ষণ অফিসে যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ বিল-ভাউচার দাখিল করা হয়েছিল। এনিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি তার নজরে আসে। অভিযুক্ত পিয়ন তুহিন শেখের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ২১ নম্বর টিআর ফরমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিববার পরিকল্পনা কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ‘ক্রয়, সরবরাহ ও সেবা বাবদ ব্যয়ের বিল’ দাখিল করা হয়েছে ৬৭ নম্বর ভাউচারে। সিংড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারি নাজমুল হাসানের নামে বিলটি হাসপাতাল থেকে ছাড় করা হয় ১৮ মার্চ।
হাসপাতল সূত্রে জানাগেছে, যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য খুব গোপনে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি ‘কোটেশন বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করা হয় চলতি মাসের ৩ তারিখে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরদিন ৪ মার্চ এই কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ‘কোটেশন কমিটি গঠন’ এবং ৫ মার্চ ‘সার্বে বোর্ড’ গঠন করা হয়। তুলনামূলক বিবরণীতে ১৭ টি ক্যাটাগড়িতে যন্ত্রপাতি মেরামত ব্যয় ধরা হয় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৯১ টাকা।
১১ মার্চ দুপুরে তুলনামূলক বিবরণী কমিটির সভা দেখিয়ে সিংড়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক এন্টারপ্রাইজকে মেরামতের কাজটি দেওয়া হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী নাজমুল হাসান কাজটি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
১১ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়ার পর থেকে মাত্র ৬ দিনে ১৭ টি ক্যাটাগড়ির যন্ত্রপাতি মেরামত কাজ সম্পাদনের কথা কাগজে কলমে বলা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত তারিখ বিহীন একটি কোটেশন বিলও দেখানো হয়েছে। এনিয়ে ২৩ মার্চ ‘অপরাধ ঢাকতে নিজের স্বাক্ষর জাল কবরছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সিভিল সার্জ মশিউর রহমান বলেন, এই অনিয়মের ব্যপারে সংবাদ প্রকাশের পর কপি সংযুক্ত করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের চিঠি কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন হলে তদ্রুই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে।