২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ছাত্রী উত্ত্যক্তের শিকার, প্রতিবাদ করায় বাবাকে মারপিট

মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর প্রতিনিধি খোরশেদ আলম ওরফে বাবু মীর্জাকে (৪২) মারধর করেছে বখাটেরা। এ ঘটনায় চার বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এনায়েতপুর থানার কেজির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাংবাদিক বাবু মির্জা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন- এনায়েতপুর থানার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার মৃত ইসমাইল ভুইয়ার ছেলে মো. আজিজুল হক হৃদয় (২০), গোপীনাথপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার ছেলে নাজমুল হোসেন রোকন ভুঁইয়া (২৫), খোকশাবাড়ী গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৭) ও গোপীনাথপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ভুঁইয়ার ছেলে রাশেদ উদ্দিন ভুঁইয়া (৪২) কলেজ প্রভাষক।

জানা গেছে, সাংবাদিক খোরশেদ আলম বাবু মির্জার মেয়ে কেজির মোড়ে আইসিএল স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।

স্কুলে যাওয়ার পথে আজিজুল হক হৃদয় তাকে প্রেম নিবেদনের মাধ্যমে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি তার মেয়ে পরিবারকে জানালে অভিযুক্ত আজিজুল হক হৃদয়কে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেন বাবু মির্জা।

এতে আরও ক্ষিপ্ত হন আজিজুল। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফিরছিল তার মেয়ে। কেজির মোড় এলাকায় পৌঁছলে আজিজুল হক হৃদয় তার হাত ও ওড়না ধরে টানাটানি শুরু করেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বাবা বাবু মির্জা ঘটনাস্থলে যান এবং তার মেয়েকে উত্ত্যক্তের ব্যাপারে প্রতিবাদ করেন।

এ সময় এজাহার নামীয় সাত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক বাবু মির্জার ওপর আক্রমণ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।  

এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে চার বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।  

এদিকে আজ সকালে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা থানা ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে কলেজ প্রভাষকের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

তাঁরা থানার সামনের সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তাঁদের দাবি, প্রভাষক রাশেদ উদ্দিন ভূইয়াসহ অন্য আসামিরা নির্দোষ।