নাটোর সদরের ৪ নং লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে,নেই শহীদ মিনার। বাঁশ, কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে। তাই হয় না একুশে ফেব্রুয়ারির তেমন কোনো আয়োজন। যদিও সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় । বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ মিনার তৈরি হয়নি।এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না ভাষার সঠিক তাৎপর্য, জানাতে পারছে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।
একুশে ফেব্রুয়ারীর দিন ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এদিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। তবে প্রতিবারের মতো এবারও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সোহেব আলম তানভীর জানায়- স্কুলে শহীদ মিনার নেই, তাই ফুল দিতে পারি না। শহীদ মিনার না থাকার কারণে ২১ ফেব্রুয়ারি ভালোভাবে পালন করতে পারি না। এছাড়া ওইদিন কোনো ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।
সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার জানান- ২১ ফেব্রুয়ারির দিন আমাদের বড় ভাইয়েরা বাঁশ, ইট, কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে। আমরা ওখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কাশেম বলেন- অন্য সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে তারা ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করে। আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় দিনটি ভালোভাবে পালন করতে পারি না। তিনি বলেন জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও শহীদ মিনার স্থাপন করা হয় নাই বিদ্যালয়ে।
অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি ডাক্তার আব্দুল আউয়াল বলেন- দীর্ঘদিন যাবত এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আমি বারবার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে শহীদ মিনার স্থাপন করার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানালেও এ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে কেহই শহীদ মিনার স্থাপন করে দিতে পারে নাই।
নাটোর জেলা পরিষদের সাবেক সিএ মোঃ রুস্তম আলী মোল্লা বলেন- এখানে একটা শহীদ মিনার থাকা খুব জরুরী, না থাকায় অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী সহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সুন্দর ভাবে একুশে ফেব্রুয়ারির পালন করতে পারছে না।
এসময় তিনি আরো বলেন, নাটোর ২ আসনের মাননীয় এমপি আলহাজ্ব শফিকুল শিমুল সাহেবের নিকট শহীদ মিনারের বিষয়ে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নাটোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদস্য ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের নিকট বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানান।