২৯ অক্টোবর, ২০২৩

গ্রাম্য বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না ২ শতাধিক শিক্ষার্থী

উল্লাপাড়ায় দুই গ্রামের বিরোধের জের ধরে প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। ১৫ অক্টোবর উপজেলার ঘাটিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঘাটিনা গ্রামবাসী।

এতে শাহজাহানপুর ও ঘাটিনা গ্রামের লোকজনের সাথে গোলযোগ বাঁধে। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাটিনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা গেলে স্থানীয়রা মারধরসহ বিদ্যালয়ে আসতে নিষেধ করেন বলে অভিযোগ করেন শাহজাহানপুর গ্রামের শিক্ষার্থীরা। 

শাহজাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘাটিনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোঃ আসিফ হোসেন, মোঃ নাছিম, বাদশা প্রামানিক, রাশিদুল ইসলাম নয়ন জানান, গ্রাম্য বিরোধের জেরে তারা প্রায় ১৫ দিন ধরে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না।

রোববার স্কুলে গেলেও ঘাটিনা গ্রামের তাদের সহপাঠী শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে নিষেধ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক পিএম আমিরুল ইসলামের নিকট গিয়ে বিষয়টি জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। 

এই গ্রামের বাসিন্দা এবং ঘাটিনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমা খাতুন, আছিয়া খাতুন, স্মৃতি খাতুন অভিযোগ করেন বলেন, গ্রাম গ্রাম বিরোধ হয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে তাদেরকে স্কুলে যেতে দিচ্ছে না এটা অমানবিক।

আজও (রোববার) স্কুলে যেতে ঘাটিনা গ্রামের জনসাধারনসহ সহপাঠীরা তাদের বিভিন্নভাবে গালমন্দ করেন এবং স্কুলে যেতে বারন করেন। তারা আরো জানানা, সামনে এসএসসি পরীক্ষা। স্কুলে যেতে না দেবার ফলে তাদের লেখাপড়ার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে ঘাটিনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিএম আমিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রতিনিয়ত শাহজাহানপুর গ্রামের শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে আসতে বলা হচ্ছে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।  

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেএম শামছুল হক জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার জন্য কমিশনার এবং প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ উজ্জল হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদেরকে স্কুলে যাবার পথে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ এখন পর্যন্ত পায়নি। অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।