২৫ অক্টোবর, ২০২৩

ধান খেত থেকে সেচপাম্প চুরি, ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ধান খেত থেকে সেচপাম্প চুরি, ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

“

মূলত কৃষকদের ব্যক্তি পর্যায়ের বিদ্যুৎচালিত অগভির সেচ যন্ত্র (জলমোটর) চুরির ঘটনা ঘটছে। বিলশা, রুহাই, পিঁপলা, যোগেন্দ্রনগর, বিয়াঘাট, খুবজিপুর, শ্রীপুর, সাবগাড়ি এবং অনন্দ নগর বিল থেকে মাটির প্রায় ৩০ ফিট নিচের জলমটর চুরি হচ্ছে। সবশেষ চলতি অক্টোবর মাসেই আনন্দ নগর এবং হাঁড়িভাঙ্গা বিল থেকে কৃষক রিপন মন্ডল, হাসিনুর রহমান হাসু, রাজা হাজী, রবিউল করিম ও স্বপনের বিদ্যুৎ চালিত ৫টি সেচযন্ত্র চুরি হয়েছে।

 ”——এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্যমতে


ধানের জমি থেকে চুরি যাচ্ছে কৃষকের সেচ পাম্প (জলমটর)। একারণে ধান ক্ষেতে সময়মতো পানি দেওয়া যাচ্ছে না। এখন সেচ সংকটে ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চাষীরা। প্রশাসনিক সহায়তা না পেয়ে কৃষকেরা চোর ধরতে বিকল্প পথ বেঁছে নিয়েছেন। 

চুরি রোধে কৃষকদের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে চলছে মাইকিং। চোর ধরতে ঘোষণা করা হয়ে ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কারও। কিন্তু কিছুতেই রোধ হচ্ছেনা ধান ক্ষেতের সেচ পাম্প চুরি। কৃষকেরা  জানান, চলতি আমন মওসুমেই চলনবিল অধ্যুষিত গুরুদাসপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ধান ক্ষেত থেকে চুরি হয়েছে অন্তত ৩০টি সেচ পাম্প। রাতের আঁধারে এভাবে অগভির সেচ পাম্প চুরির হিরিক লাগলেও এখন পর্যন্ত চোরচক্রের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া সেচ পাম্পও।

সেচ পাম্প (মটর) মালিক সমিতি জানিয়েছে— রোপা আমনের ভরা মওসুম চলছে। ধানে পাক ধরে। এখন ক্ষেতে নিয়মিত সেচ দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রায়ই তাদের সেচ যন্ত্র চুরি হচ্ছে। বিলের গহিনে ধানের জমি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে কৃষকের পক্ষে সেচ যন্ত্র পাহারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এভাবে একের পর এক সেচ যন্ত্র চুরি হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। তাই সমিতির পক্ষ থেকে চুরি রোধে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হচ্ছে। চোর ধরতে পারলে কৃষকের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কারও ঘোষনা করা হয়েছে।

কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে— চলতি আমন মওসুমে গুরুদাসপুর উপজেলাজুড়ে ৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিলশা, রুহাই, পিঁপলা, যোগেন্দ্রনগর, বিয়াঘাট, খুবজিপুর, শ্রীপুর,  সাবগাড়িসহ ছোট বড় অন্তত ২০টি বিলে রোপা আমনের চাষ হয়েছে।

গুরুদাসপুর কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) তথ্যে জানাগেছে— সেচ নির্ভর কৃষির জন্য বিএডিসির সেচ প্রকল্পের আওতায় ১৪৪টি গভির সেচ যন্ত্র আছে। অগভির সেচ যন্ত্রের মধ্যে ৪ হাজার ৯০০টি শ্যালো মেশিন রয়েছে ডিজেল চালিত। নদী থেকে পানি ব্যবহারর্য্য (ললিট) সেচ যন্ত্র ৮০টি এবং বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্র রয়েছে ১ হাজার ২০০টি। সরকারি এই হিসেবের বাইরেও বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে।

এ অঞ্চলের কৃষকদের ভাষ্যমতে— মূলত কৃষকদের ব্যক্তি পর্যায়ের বিদ্যুৎচালিত অগভির সেচ যন্ত্র (জলমটর) চুরির ঘটনা ঘটছে। বিলশা, রুহাই, পিঁপলা, যোগেন্দ্রনগর, বিয়াঘাট, খুবজিপুর, শ্রীপুর, সাবগাড়ি এবং অনন্দ নগর বিল থেকে মাটির প্রায় ৩০ ফিট নিচের জলমটর চুরি হচ্ছে। সবশেষ চলতি অক্টোবর মাসেই আনন্দ নগর এবং হাঁড়িভাঙ্গা বিল থেকে কৃষক রিপন মন্ডল, হাসিনুর রহমান হাসু, রাজা হাজী, রবিউল করিম ও স্বপনের বিদ্যুৎ চালিত ৫টি সেচযন্ত্র চুরি হয়েছে।  

ভুক্তভোগী কৃষক হাসিনুর রহমান জানান, চলতি মাসে তার দুই দফায় সেচ পাম্প চুরি গেছে। তার এই সেচ পাম্পের আওতায় নিজের ১৮ বিঘা ছাড়াও আরো ২৫ বিঘা জমির ধানে সেচ দেওয়া হচ্ছিল। মাসের শুরুর দিকে ৫ হর্স ক্ষমতার সেচ পাম্পটি চুরি হয়। সেচ ঠিক রাখতে ২৫ হাজার টাকা ব্যায়ে আরো একটি সেচ পাম্প বসিয়ে ছিলেন তিনি। সপ্তাহখানেক আগে সেটিও চুরি হয়ে গেছে।

সেচ পাম্প হারানো কৃষকদের মধ্যে রিপন মন্ডল, রাজা হাজী ও রবিউল করিমসহ দশজন কৃষক জানান, সেচ পাম্প চুরির পর ধান ক্ষেতে সেচ কাজ স্বচল রাখতে কৃষকেরা চাঁদা তুলে সেচ পাম্প বসাচ্ছেন। সেচ পাম্প চুরির ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষি অফিসেও।

সেচযন্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন জানান, ধারাবাহিকভাবে সেচযন্ত্র চুরি হওয়ায় তারা ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অর্শ শক্তি ও মানভেদে নতুন সেচযন্ত্রের মুল্য ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু কৃষকদের পক্ষে ওই টাকা যোগান দেয়া কষ্টসাধ্য। সেচ পাম্প চুরি রোধে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোনোয়ারুজ্জামান জানান, সেচ পাম্প চুরির বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরি রোধে পুলিশ কাজ করছে। 

কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশীদ জানান, সেচযন্ত্র চুরির বিষয়টি নিয়ে উপজেলা থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেছেন তিনি। চুরি রোধে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।


    কৃষি নিয়ে আরো পড়ুন