
শিশু রাসেলের জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের কাছে তুলে ধরতে তার জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয়ভাবে তৃতীয়বারের মতো পালিত ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২৩’ এর প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়’।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল।
বঙ্গবন্ধুর সাথে নরপিশাচরা নির্মমভাবে তাকেও হত্যা করেছিল। তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। নাটোর জেলায় বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জনাব আবু নাসের ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল এ সময় তিনি বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নরপিশাচরা নিষ্ঠুরভাবে তাকেও হত্যা করে। তখন তিনি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা তাকে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
শহীদ শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভ বুদ্ধিবোধসম্পন্ন মানুষদের কাছে পরম আদরের নাম।অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে গ্রাম-গঞ্জ-শহর তথা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ জনপদ-লোকালয়ে শেখ রাসেল আজ এক মানবিক সত্তায় পরিণত হয়েছে।
মানবিক চেতনাসম্পন্ন সব মানুষ শেখ রাসেলের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শোককে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলার প্রতিটি শিশু-কিশোর তরুণের মুখে হাসি ফোটাতে আজ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বঙ্গবন্ধু ও তাঁর শিশুপুত্র শেখ রাসেলের দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিরা এখনও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে। সেই সব দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা আজ সময়ের দাবি।
ভবিষ্যৎ সব শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাসেল দিবসে এ দাবি আজ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিশু শেখ রাসেল ছিলেন নির্মলতার প্রতীক। তিনি ছিলেন দুরন্ত, প্রাণবন্ত, নির্ভীক।
সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শেখ রাসেল স্মরণে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এ ল্যাবের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে মেধাবী জাতি গঠনের পাশাপাশি শেখ রাসেলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
সভায় আরো ও বক্তব্য রাখেন মোঃ তরিকুল ইসলাম পিপিএম পুলিশ সুপার নাটোর, নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম রমজান,নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী ও প্রমুখ।