১৮ অক্টোবর, ২০২৩

উজালখলসী—রাইচাঁদ নদীর তীরে শতবর্ষী ঘোড়াদহ মেলা

রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার ২ নং কিশমত গনকৈড় ইউনিয়নের উজালখলসী গ্রামে ১৭ অক্টোবর রোজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়াদহ মেলা, আজ ২ দিন, যা বর্তমানে জামাইমেলা নামে পরিচিত।

মেলার প্রকৃতপক্ষরা ছিলেন মেলার, প্রথম দিন,বা ২ দিন, তবে আগামীকালও জমজমাট মেলা বসবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

তারা আরো জানান, কোন প্রচার প্রচারণা না করেও আমরা যে মেলা বসায়, তাও লোকের জায়গা দিতে অনেক অসুবিধা হয়, প্রত্যেক বছরে কার্তিক মাসের প্রথম দিনে এই মেলাতে বসে, ঐতিহ্যবাহী এ মেলাটি প্রায় ২০০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ।

তবে কালের বিবর্তনে ও নদী তার নাব্যতা হারানোে কারণে তা পুরোপুরি বিলুপ্তি হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী উজালখলসীর ঘোড়াদহ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দোকানীরা দোকানের জন্য মেলায় জায়গা ক্রয় করে নিয়ে বাহারী রকমারী প্রশাধনীর দোকান বসিয়েছে।

অনেক দিন পর এবছর মাটির রঙের হাড়ি চোখে পড়ে যা আজ থেকে ২০ বছর আগেও জামাইরা এই রঙের হাড়িতে করেই বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি জাতীয় খাবার ক্রয় করে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যেত যা এখন বিলুপ্ত।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারে ঘোড়াদহ মেলার আয়োজনও ব্যাপক পরিসরে হয়েছে বলে জানান মেলা কর্তৃপক্ষ।

এবারে মেলায়ও ভুট্টার খইয়ের অনেক দোকান বসেছে যা পুরাতন ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য, ঝিলাপি, নানা রংঙের মিষ্টি, শিশুদের খেলনাসহ থাকছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী।

এ মেলায় বাহারী রকমের কম্বলের ব্যাবসাও চোখে পড়ার মত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কম্বল ব্যাবসায়ীরা উক্ত মেলায় দোকানের পসরা সাজিয়েছ।

মেলায় চোখ জুড়ানো খোদাই করা কাঠের বিভিন্ন আসবাব পত্রে স্কুল মাঠ ছেয়ে গেছে। চোখ জুড়িয়ে যায় নোকশা কাটা আসবাব পত্র গুলো দেখে। প্রতি বছরের মত এবারও প্রায় এক সপ্তাহ আগ থেকে আসতে শুরু করেছে আসবাবপত্র ও ব্যবসায়ীরা।

দেশের যশোহর থেকে আসা মেলার কাঠের আসবাব পত্রের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, আমরা প্রায় একযুগ পূর্ব থেকে প্রতি বছর এই মেলাতে ব্যবসা করে আসিতেছি।

আমাদের থাকা খাওয়ার সমস্যা হলেও আমদের কেনাবেচা ভাল হয় বলে আমাদের কষ্ট মনে হয় না।

রংপুর জেলা হতে আসা কসমেটিক ব্যবসায়ী শামসুল হক বলেন, আমারা মেলায় এসেছি ব্যবসার উদ্যেশ্যে। মেলা কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা পেলে মেলাতে নিরাপত্তার সাথে ব্যবসা করতে পারবো বলে আসা করছি।

তবে এই মেলা কমিটির সদস্যরা আমাদের নিরাপত্তার দিচ্ছে এবং রাতের বেলায় আলোর ব্যবস্থা করেছেন মেলা কমিটি।

মেলার মাংশ ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান বলেন, অতি সুন্দর পরিবেশর মধ্যে আমারা ব্যবসা করতে পারবো বলে আমরা আসা করছি। মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন জিনিস পত্র ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর মিষ্টি কেনাবেচা অনেক ভালো হয়েছিল।আশা করছি এবছরও ভালো হবে ইনশাআল্লাহ।